২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | রবিবারবাংলা: ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
স্বাস্থ্য

নোটিফিকেশনের টানে বারবার ফোন চেক করছেন? জানুন কতটা ক্ষতি হচ্ছে মস্তিষ্কের

IMG_5385

সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর ফোন হাতে নেওয়া থেকে শুরু করে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগপর্যন্ত বারবার নোটিফিকেশন দেখা—অনেকের দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু অজান্তেই এই অভ্যাস প্রভাব ফেলতে পারে মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তিতে।

নটিংহাম ট্রেন্ট ইউনিভার্সিটি ও দক্ষিণ কোরিয়ার কেইমিয়ং ইউনিভার্সিটির গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা দিনে গড়ে প্রায় ১১০ বার বা তার বেশি ফোন চেক করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে বিষয়টি উদ্বেগের কারণ হতে পারে। আবার ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞানী ল্যারি রোজেনের দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় দেখা গেছে, কিশোর ও তরুণেরা অনেক সময় ১০ থেকে ২০ মিনিট পরপর ফোন আনলক করেন।

ফোন ব্যবহারের প্রকৃত মাত্রা অনেকেই বুঝতে পারেন না। অনেকের ধারণা, তাঁরা দিনে কয়েকবার ফোন দেখেন। অথচ অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএসের ‘পিকআপ’ বা ফোন হাতে নেওয়ার হিসাব দেখলে সংখ্যাটি অনেক বেশি হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফোন বারবার চেক করার অন্যতম বড় প্রভাব পড়ে মনোযোগে। প্রতিবার ফোনের নোটিফিকেশন দেখা বা স্ক্রিনে চোখ দেওয়ার সময় মস্তিষ্ককে আগের কাজ থেকে নতুন একটি উদ্দীপনার দিকে মনোযোগ সরাতে হয়। এভাবে ঘন ঘন কাজ বদলানোর ফলে দীর্ঘ সময় কোনো একটি কাজে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

সিঙ্গাপুর ম্যানেজমেন্ট ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায়ও দেখা গেছে, ফোন চেক করার মতো ছোট ছোট বাধা যত বেশি ঘটে, মনোযোগ হারানোর প্রবণতা এবং স্মৃতি-সংক্রান্ত সমস্যা তত বাড়তে পারে। অর্থাৎ শুধু মোট কত ঘণ্টা ফোন ব্যবহার করা হচ্ছে, তা নয়; দিনে কতবার ফোনের কারণে কাজে বিঘ্ন ঘটছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

এই অভ্যাসের প্রভাব পড়ছে সামাজিক জীবনেও। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, একসঙ্গে খাওয়া কিংবা কর্মক্ষেত্রের বৈঠকের মধ্যেও অনেকে বারবার ফোন দেখেন। গবেষক গ্লোরিয়া মার্কের গবেষণা অনুযায়ী, কোনো কাজে বাধা তৈরি হলে আগের কাজে পুরোপুরি মনোযোগ ফিরিয়ে আনতে উল্লেখযোগ্য সময় লেগে যেতে পারে।

Advertisements

নোটিফিকেশনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। মেসেজ, ই-মেইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালার্ট প্রতিনিয়ত মনোযোগ আকর্ষণ করে। ফলে কোনো জরুরি কারণ না থাকলেও ফোন হাতে নেওয়ার অভ্যাস তৈরি হয়। ধীরে ধীরে ফোন চেক করা অনেকের জন্য প্রায় স্বয়ংক্রিয় আচরণে পরিণত হয়।

রাতেও এই অভ্যাসের প্রভাব থাকে। অনেকে ফোন বিছানার পাশে রেখে ঘুমান এবং ঘুমানোর আগে বা ঘুম থেকে ওঠার পরপরই ফোন দেখেন। এতে ঘুমের স্বাভাবিক ধারাও ব্যাহত হতে পারে, যা পরোক্ষভাবে মনোযোগ ও স্মৃতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে ফোনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তোলা যায়। অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ করা, দরকার নেই এমন অ্যাপ সরিয়ে ফেলা, ফোন গ্রেস্কেলে রাখা এবং কাজ বা বিশ্রামের সময় ফোন দূরে রাখা—এসব পদক্ষেপ ফোন চেক করার প্রবণতা কমাতে সাহায্য করতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ফোন যেন আমাদের মনোযোগ নিয়ন্ত্রণ না করে। প্রয়োজন অনুযায়ী ফোন ব্যবহার করা এবং অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন থেকে নিজেকে দূরে রাখাই হতে পারে মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি ধরে রাখার সহজ একটি উপায়।

Advertisements