২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | শনিবারবাংলা: ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
বিবিধ

টানা বৃষ্টিতে ডুবছে ব্যাংকক, বন্যা পরিস্থিতিতে জরুরি ঘোষণা

bd_50.1790417037

দুই দিন ধরে অবিরাম ভারি বৃষ্টিতে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহরটিতে জরুরি বন্যা পরিস্থিতি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

প্লাবিত সড়কগুলোতে পানি কোথাও কোমরসমান হয়ে যাওয়ায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় বাসিন্দাদের আপাতত ঘরের বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে খাল ও জলাধারের কাছাকাছি বসবাসকারীদের গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র নিরাপদে উঁচু স্থানে সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্ষাকালে থাইল্যান্ডে ভারি বৃষ্টি অস্বাভাবিক নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বৃষ্টির পরিমাণ এতটাই বেড়েছে যে ব্যাংককের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা চাপ সামলাতে পারছে না। ফলে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে পানি জমে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

আবহাওয়া পরিস্থিতিও দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রোববার পর্যন্ত বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এতে শহরের বিভিন্ন খাল উপচে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ব্যাংককের কেন্দ্রীয় এলাকার উত্তরে একটি খালের পাশে বসবাসকারী ৬৭ বছর বয়সী সোমকিদ ফিউক-নগাম জানান, তার এলাকায় পানির উচ্চতা দ্রুত বেড়েছে। পানির কারণে বাইরে বের হওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতির কারণে গত দুই দিন ধরে তার দোকানও বন্ধ রয়েছে।

তার দাবি, ২০১১ সালের ভয়াবহ বন্যার অভিজ্ঞতার তুলনায় এবার ব্যাংককের পরিস্থিতি আরও কঠিন মনে হচ্ছে।

Advertisements

২০১১ সালে থাইল্যান্ডে দীর্ঘস্থায়ী এক ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছিল, যা প্রায় তিন মাস ধরে চলেছিল এবং দেশজুড়ে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। তবে এবারের বন্যায় ব্যাংককে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

থাই আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনেও ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বৃষ্টির জন্য দায়ী নিম্নচাপটি ধীরে ধীরে মধ্য থাইল্যান্ডের দিকে সরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ব্যাংককের গভর্নর চাদচার্ট সিত্তিপুন্ট জানিয়েছেন, শহরের পূর্বাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি দ্রুত সরিয়ে নিতে বিভিন্ন স্থানে পাম্প ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু অনেক খাল ইতোমধ্যে পানিতে পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

গভর্নরের মতে, খালের আশপাশে বসবাসকারী মানুষরাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় তাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

Advertisements