২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | মঙ্গলবারবাংলা: ৭ আশ্বিন ১৪৩৩
জীবনযাপন

আপনার ফোন আপনাকে কতটা চেনে?

AAEAAQAAAAAAAAh3AAAAJGNkZDM5NzNhLTM5NzUtNGQ5Yi1iOGNlLWFjNmNlMWIzYjYxYw-2

বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ঘুম থেকে ওঠার পর প্রথম যে জিনিসটি হাতে আসে, ঘুমানোর আগে শেষ যে ডিভাইসটি দেখা হয়—অনেকের ক্ষেত্রেই সেটি স্মার্টফোন। কিন্তু এই ছোট ডিভাইসটি আমাদের সম্পর্কে ঠিক কতটা তথ্য সংগ্রহ করতে পারে?

বাস্তবে ফোন একাই সব তথ্য সংগ্রহ করে না। বিভিন্ন অ্যাপ, অপারেটিং সিস্টেম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং তৃতীয় পক্ষের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ব্যবহারকারীর নানা ধরনের তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করতে পারে। এসব তথ্য একত্র হয়ে একজন ব্যবহারকারীর একটি ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি করতে পারে।

আপনার অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারে

স্মার্টফোনের সবচেয়ে সংবেদনশীল তথ্যগুলোর একটি হলো অবস্থান। জিপিএস, ওয়াই-ফাই, মোবাইল নেটওয়ার্কসহ বিভিন্ন প্রযুক্তির মাধ্যমে ফোন আপনার অবস্থান নির্ধারণ করতে পারে।

কোনো অ্যাপকে লোকেশন ব্যবহারের অনুমতি দিলে সেটি আপনার অবস্থানের তথ্য ব্যবহার করতে পারে। আবার নির্দিষ্ট সেটিংস চালু থাকলে আপনার কোথায় যাওয়া-আসা হচ্ছে, কোন জায়গায় বেশি সময় কাটাচ্ছেন কিংবা কোন স্থানে নিয়মিত যাচ্ছেন—এসবের একটি ইতিহাসও তৈরি হতে পারে।

তবে সব অ্যাপ একইভাবে লোকেশন তথ্য সংগ্রহ করে না। এক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর দেওয়া অনুমতি, ফোনের অপারেটিং সিস্টেম এবং সংশ্লিষ্ট অ্যাপের গোপনীয়তা নীতি গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার আগ্রহ ও পছন্দ বুঝতে পারে

আপনি কী ধরনের কনটেন্ট দেখেন, কোন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেন কিংবা কোন অ্যাপ বেশি ব্যবহার করেন—এসব তথ্যের মাধ্যমে আপনার আগ্রহ সম্পর্কে ধারণা তৈরি করা সম্ভব।

Advertisements

উদাহরণ হিসেবে, আপনি যদি কয়েক দিন ধরে ভ্রমণ, হোটেল বা ক্যামেরা সম্পর্কে অনলাইনে খোঁজ করেন, পরে একই ধরনের পণ্যের বিজ্ঞাপন দেখতে পারেন। এর অর্থ এই নয় যে ফোন আপনার মনের কথা বুঝে ফেলেছে। বরং আপনার সার্চ, ওয়েবসাইট ভিজিট, অ্যাপ ব্যবহারের ধরন এবং বিজ্ঞাপন ব্যবস্থার বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে আপনার সম্ভাব্য আগ্রহ সম্পর্কে ধারণা তৈরি করা হয়।

ফোন কি আপনার কথা শুনতে পারে?

অনেকেরই মনে প্রশ্ন থাকে—মোবাইল ফোন কি সব সময় আমাদের কথা শোনে?

কোনো অ্যাপকে মাইক্রোফোন ব্যবহারের অনুমতি দিলে সেটি মাইক্রোফোন ব্যবহার করতে পারে। তবে আমরা কোনো বিষয় নিয়ে কথা বললেই ফোন গোপনে সেই কথোপকথন শুনে বিজ্ঞাপন দেখায়—এমন দাবিকে প্রমাণিত সত্য হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

বর্তমান স্মার্টফোনে কোন অ্যাপ মাইক্রোফোন, ক্যামেরা কিংবা লোকেশন ব্যবহার করেছে, তা দেখার বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে। অ্যান্ড্রয়েডের প্রাইভেসি ড্যাশবোর্ড এবং আইফোনের অ্যাপ প্রাইভেসি রিপোর্ট ব্যবহার করে এসব তথ্য পরীক্ষা করা যায়।

কোন অ্যাপে কত সময় কাটান, সেটিও জানা যেতে পারে

আপনি কোন অ্যাপ কতবার খুলছেন, কতক্ষণ ব্যবহার করছেন কিংবা কোন ফিচার ব্যবহার করছেন—এসব আচরণগত তথ্যও বিভিন্নভাবে সংরক্ষণ বা বিশ্লেষণ করা হতে পারে।

আইফোনের অ্যাপ প্রাইভেসি রিপোর্টের মাধ্যমে গত কয়েক দিনে কোনো অ্যাপ লোকেশন, ছবি, ক্যামেরা, মাইক্রোফোন বা কনট্যাক্টসের মতো তথ্য কতবার ব্যবহার করেছে, তা দেখা যায়। পাশাপাশি কোনো অ্যাপ কোন ওয়েব ডোমেইনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, সেই তথ্যও জানা সম্ভব।

আপনার সব তথ্য কিন্তু ফোনে থাকে না

অনেকের ধারণা, ব্যবহারকারীর সব তথ্য স্মার্টফোনের ভেতরেই জমা থাকে। বাস্তবে বিষয়টি এত সরল নয়।

কিছু তথ্য ফোনে সংরক্ষিত থাকতে পারে, আবার কিছু তথ্য সংশ্লিষ্ট অ্যাপের সার্ভারে থাকতে পারে। কোনো তথ্য গুগল, অ্যাপল বা অন্য অনলাইন অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। আবার বিভিন্ন অ্যাপের ব্যবহৃত তৃতীয় পক্ষের প্রযুক্তির মাধ্যমেও তথ্য অন্য সেবাদাতার কাছে যেতে পারে।

তাই শুধু ‘ফোন কী জানে’—এই প্রশ্নের বদলে ‘কোন অ্যাপ বা সেবা আমার কোন তথ্য সংগ্রহ করছে’—সেটিও জানা গুরুত্বপূর্ণ।

নিজের তথ্যের নিয়ন্ত্রণ কীভাবে রাখবেন?

ব্যক্তিগত তথ্যের প্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন হলেও কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা যায়।

প্রথমত, প্রয়োজন না থাকলে কোনো অ্যাপকে লোকেশন, ক্যামেরা, মাইক্রোফোন বা কনট্যাক্টস ব্যবহারের অনুমতি দেবেন না।

দ্বিতীয়ত, ফোনের প্রাইভেসি সেটিংস নিয়মিত পরীক্ষা করুন। কোন অ্যাপ কোন সংবেদনশীল তথ্য ব্যবহার করছে, তা দেখে অপ্রয়োজনীয় অনুমতি বন্ধ করে দিতে পারেন।

তৃতীয়ত, নতুন অ্যাপ ইনস্টলের আগে সেটির ডেটা সেফটি বা প্রাইভেসি সংক্রান্ত তথ্য দেখে নিন।

চতুর্থত, বিজ্ঞাপনভিত্তিক ব্যক্তিগতকরণ ও ট্র্যাকিংয়ের সেটিংস প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ করুন।

পঞ্চমত, গুগল ম্যাপস বা অন্যান্য সেবায় লোকেশন হিস্ট্রি চালু রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করুন। প্রয়োজন না থাকলে সেটি বন্ধ করা যেতে পারে।

ফোন আপনাকে কতটা চেনে?

স্মার্টফোন হয়তো আপনার সম্পর্কে আলাদা করে একটি পূর্ণাঙ্গ পরিচিতিপত্র তৈরি করে রাখে না। কিন্তু আপনার দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের অসংখ্য ডিজিটাল সংকেত এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।

আপনি কখন ফোন ব্যবহার করেন, কোথায় যান, কী সার্চ করেন, কোন ভিডিও দেখেন, কোন অ্যাপ বেশি ব্যবহার করেন, কী ধরনের পণ্য খোঁজেন কিংবা কোন বিজ্ঞাপনে ক্লিক করেন—এসব তথ্য আলাদাভাবে ছোট মনে হলেও একসঙ্গে বিশ্লেষণ করলে আপনার ডিজিটাল আচরণ সম্পর্কে বেশ বিস্তারিত ধারণা পাওয়া সম্ভব।

তাই স্মার্টফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে শুধু সুবিধার দিকে নজর দিলেই হবে না। কোন তথ্যের জন্য কোন অ্যাপকে অনুমতি দিচ্ছেন, সেটিও সচেতনভাবে বিবেচনা করা জরুরি।

ফোন আপনার সম্পর্কে যেসব তথ্য জানতে পারে

  • আপনার বর্তমান বা আগের অবস্থান
  • আপনার যাতায়াতের ধরন
  • আপনি কী ধরনের বিষয় সার্চ করেন
  • কোন ধরনের কনটেন্টে আগ্রহী
  • কোন অ্যাপ বেশি ব্যবহার করেন
  • কোন পণ্য বা সেবা সম্পর্কে আগ্রহ দেখান
  • আপনার কনট্যাক্টস বা পরিচিতদের তথ্য
  • কখন এবং কতক্ষণ ফোন ব্যবহার করেন
  • ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন ব্যবহারের তথ্য
  • আপনার সামগ্রিক ডিজিটাল আচরণের একটি সম্ভাব্য প্রোফাইল
Advertisements