১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | বুধবারবাংলা: ১ আশ্বিন ১৪৩৩
বিবিধ

র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় ২০ শিক্ষার্থীকে ৬ লাখ টাকা জরিমানা

ju_main_gate

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে র‍্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে আবারও কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পৃথক দুটি ঘটনায় ২০ শিক্ষার্থীকে মোট ৬ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে জরিমানা পরিশোধ না করা পর্যন্ত তাদের চলমান ও পরবর্তী নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি অফিস আদেশে এসব সিদ্ধান্ত জানানো হয়। গত ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের বিশেষ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দুই ঘটনার মধ্যে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের আট শিক্ষার্থীকে মোট ৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা এবং ইতিহাস বিভাগের ১২ শিক্ষার্থীকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, গত ২০ জুলাই রাত ১০টা থেকে ভোর ৩টা পর্যন্ত শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক হলের পশ্চিম পাশে মনপুরা এলাকায় পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪–২০২৫ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী একই বিভাগের ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের র‍্যাগিং করেন। এ সময় ভুক্তভোগীদের অমানবিকভাবে নির্যাতন, অকথ্য ভাষায় গালাগাল এবং কান ধরিয়ে ওঠবস করানোর অভিযোগ ওঠে।

এই ঘটনায় আট শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে ৩৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হয়েছে। মো. জাহিদ হাসান, মো. ফজলে হাসান ফাহাদ ও সৈয়দ সাকিব আহমেদ রাতুলকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। মো. মাহমুদুল আমিন সিয়াম, মো. মোস্তাফিজুর রহমান মিজু ও মো. ফয়সাল আহমেদকে ৪৫ হাজার টাকা করে, মো. মাহমুদুল হাসান খান আকিবকে ৪০ হাজার এবং মো. আল-আমিন হোসাইনকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অন্য ঘটনাটি ইতিহাস বিভাগের। গত ৩ জুলাই রাত ১১টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে একই বিভাগের ২০২৪–২০২৫ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ১৩ শিক্ষার্থীকে র‍্যাগিং করার অভিযোগ ওঠে। অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ওই সময় তাদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল, কান ধরানো এবং ‘ম্যানার শেখানোর’ নামে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়।

এ ঘটনায় ১২ শিক্ষার্থীকে ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হয়েছে। মো. আবু আবতাহী অনিককে ৩০ হাজার টাকা এবং অন্য ১১ জন—নাছিম উদ্দিন মজুমদার, মো. মাহফুজুর রহমান অন্ত, আব্দুল্লাহ মাহদী, শুভাশীষ রায় প্রান্ত, মো. রায়হান খান, মো. নাঈমুল হাসান, মো. ইসফাক হাদী, নাঈম আহমেদ সজিব, কার্তিক চন্দ্র রায়, কাজী শাহ জামশেদ আলম নাবিল ও সাইফুল্লাহ মানসুর আনানকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ ২০১৮’-এর ধারা ৩(২) (ঘ) অনুযায়ী এ শাস্তি দেওয়া হয়েছে। জরিমানা পরিশোধ না করা পর্যন্ত অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা চলমান পরীক্ষা, টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা কিংবা পরবর্তী নির্ধারিত কোনো পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন না।

Advertisements

একই সঙ্গে অফিস আদেশে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা পুনরায় ঘটলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে র‍্যাগিংকে শৃঙ্খলাভঙ্গের গুরুতর ঘটনা হিসেবে বিবেচনার বিষয়টি আবারও স্পষ্ট হলো।

Advertisements