১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | বুধবারবাংলা: ১ আশ্বিন ১৪৩৩
বিবিধ

একাদশে ভর্তির প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ আজ রাতে, যেভাবে জানবেন কোন কলেজে সুযোগ পেলেন

image-412798

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এবার একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির পালা। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে অনলাইনে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রথম ধাপের ফল আজ বুধবার রাত ৮টায় প্রকাশ করা হবে। ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীরা অনলাইনে নিজেদের পছন্দের কলেজের তালিকা ও নির্বাচনের ফল জানতে পারবেন।

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়েই সারা দেশে একযোগে প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ করা হবে। বুধবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।

প্রথম ধাপে কোনো কলেজে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হলে শিক্ষার্থীর সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হবে ভর্তি নিশ্চায়ন। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার মধ্যে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে নির্বাচন নিশ্চায়ন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিশ্চায়ন না করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর নির্বাচন ও আবেদন বাতিল হয়ে যাবে। এরপর শিক্ষার্থীদের পছন্দক্রমের ভিত্তিতে মাইগ্রেশনের ফল প্রকাশ করা হবে ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায়। কলেজে চূড়ান্ত ভর্তি কার্যক্রম চলবে ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর। সব প্রক্রিয়া শেষ করে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

আবেদন করেছে প্রায় ১০ লাখ শিক্ষার্থী

এবার একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করেছে ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৯৬ শিক্ষার্থী। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের জ্যেষ্ঠ সিস্টেম অ্যানালিস্ট মনজুরুল কবীর এ তথ্য জানিয়েছেন। সারা দেশে কলেজ ও মাদ্রাসা মিলিয়ে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। অর্থাৎ মোট আসনের তুলনায় আবেদনকারীর সংখ্যা অনেক কম। ফলে বিপুলসংখ্যক আসন খালি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আসন বেশি থাকলেও সব শিক্ষার্থী তাদের পছন্দের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবেন না। কারণ নামী ও তুলনামূলক ভালো ফল করা প্রতিষ্ঠানগুলোর আসনসংখ্যা সীমিত।

গত ২ সেপ্টেম্বর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন শুরু হয়। নির্ধারিত সময় শেষে গত রোববার আবেদন গ্রহণ শেষ হয়েছে। ভর্তি নির্দেশনা অনুযায়ী, একজন শিক্ষার্থী সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ পছন্দক্রমে রাখতে পেরেছেন।

Advertisements

বিভাগ পরিবর্তনের সুযোগ

এবারের ভর্তি প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের জন্য বিভাগ পরিবর্তনের সুযোগ রাখা হয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পাস করা শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান, মানবিক কিংবা ব্যবসায় শিক্ষা—যেকোনো বিভাগে ভর্তি হতে পারবেন। অন্যদিকে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীরা নিজেদের বিভাগের পাশাপাশি পরস্পরের বিভাগেও আবেদন করতে পারবেন। সব বিভাগের শিক্ষার্থীদের ইসলামী শিক্ষা, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ও সংগীত বিভাগে আবেদনের সুযোগ রাখা হয়েছে। কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাও নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট বিভাগে ভর্তির সুযোগ পাবেন।

আসন সংরক্ষণে থাকছে বিভিন্ন কোটা

ভর্তির ক্ষেত্রে প্রতিটি কলেজের ৯৩ শতাংশ আসন সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য মেধার ভিত্তিতে উন্মুক্ত থাকবে। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। এ ছাড়া মহানগর, বিভাগীয় ও জেলা সদরের প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ এবং মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর ও সংস্থায় কর্মরতদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে মোট ২ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করা হবে। তবে কোটায় উপযুক্ত প্রার্থী পাওয়া না গেলে ওই আসন মেধাতালিকা থেকে পূরণ করা হবে। এই কোটা ব্যবস্থা শুধু ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রযোজ্য। এই কোটা ব্যবস্থা শুধু ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রযোজ্য।

সমান জিপিএ হলে কীভাবে হবে মেধাক্রম?

একই জিপিএ পাওয়া একাধিক শিক্ষার্থীর মধ্যে মেধাক্রম নির্ধারণে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনা করা হবে।

বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মোট নম্বরও সমান হলে সাধারণ গণিত, উচ্চতর গণিত বা জীববিজ্ঞানের নম্বর বিবেচনা করা হবে। এরপরও সমতা থাকলে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নের নম্বর দেখা হবে। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সমান নম্বর হলে ইংরেজি, গণিত ও বাংলা বিষয়ের নম্বর পর্যায়ক্রমে বিবেচনা করা হবে। স্কুল অ্যান্ড কলেজ কিংবা নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত যোগ্যতার শর্ত পূরণ করলে নিজ প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন।

ভর্তি ও সেশন ফি কত?

এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ঢাকা মহানগরে বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমে সেশন চার্জ ও ভর্তি ফি সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যান্য মহানগরে এই সীমা ৩ হাজার টাকা, জেলা সদরে ২ হাজার এবং উপজেলা বা মফস্বল এলাকায় সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০০ টাকা। নন-এমপিও বা আংশিক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ঢাকা মহানগরে বাংলা মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং ইংরেজি মাধ্যমে ৮ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া যাবে। অন্যান্য মহানগরে বাংলা মাধ্যমে ৫ হাজার এবং ইংরেজি মাধ্যমে ৬ হাজার টাকা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

জেলা সদরে বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমে যথাক্রমে ৩ হাজার ও ৪ হাজার টাকা এবং উপজেলা বা মফস্বল এলাকায় ২ হাজার ৫০০ ও ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া যাবে।

এ ছাড়া প্রাথমিক নিশ্চায়নের সময় বোর্ডকে মোট ৩৪০ টাকা ফি দিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে রেজিস্ট্রেশন, ক্রীড়া, বিএনসিসি, রোভার বা রেঞ্জার, রেড ক্রিসেন্ট, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং শিক্ষক কল্যাণ ও অবসর সুবিধা বাবদ নির্ধারিত ফি।

যেভাবে অনলাইনে ফল দেখবেন

ফল দেখতে শিক্ষার্থীদের প্রথমে একাদশ শ্রেণির ভর্তির নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। এরপর হোম পেজে থাকা ‘ভিউ রেজাল্ট’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। সেখানে এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার রোল নম্বর, শিক্ষা বোর্ডের নাম, পাসের সাল এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিতে হবে। এরপর প্রদর্শিত ক্যাপচা পূরণ করে ‘সাবমিট’ করলেই ফলাফল সামনে আসবে। ফলাফলে শিক্ষার্থী কোন কলেজে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন, তা জানা যাবে। নির্বাচিত হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি নিশ্চায়ন সম্পন্ন করাও জরুরি।

এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী, বোর্ডের অনুমতি ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থী ভর্তি বা ছাড়পত্র দিতে পারবে না। অনুমোদনহীন শাখা বা বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতি, স্বীকৃতি কিংবা এমপিওভুক্তি বাতিলের মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

Advertisements