ঢাকা-কক্সবাজার রুটে বাড়ছে আরেকটি ট্রেন

কক্সবাজার ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য আসছে নতুন সুখবর। ঢাকা-কক্সবাজার রুটে বাড়তে যাচ্ছে ট্রেনের সংখ্যা। বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচল করা মহানগর এক্সপ্রেসকে এবার কক্সবাজার পর্যন্ত বর্ধিত করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই পর্যটন নগরীর পথে ছুটতে পারে ট্রেনটি।
নতুন এই উদ্যোগ শুধু ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী যাত্রীদের জন্য নয়, বরং ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের মাঝপথের বিভিন্ন জেলার মানুষের জন্যও বড় সুবিধা নিয়ে আসতে পারে। কারণ মহানগর এক্সপ্রেস বর্তমানে বিমানবন্দরসহ একাধিক স্টেশনে থামে। এসব স্টেশনের যাত্রীরা কক্সবাজারে যেতে এতদিন সরাসরি ট্রেনসেবা পেতেন না। ফলে সড়কপথেই তাদের ভরসা করতে হতো।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রাবিরতির পাশাপাশি কক্সবাজারের সঙ্গে সরাসরি রেল যোগাযোগের দাবি ছিল স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন মহলের। যাত্রী চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবার মহানগর এক্সপ্রেসকে কক্সবাজার পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
গত ১ আগস্ট চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ পরিদর্শনে গিয়ে রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদও কক্সবাজার রুটে ট্রেন বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, বর্তমানে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারে চার জোড়া ট্রেন চলাচল করছে। যাত্রীদের চাহিদা বিবেচনায় এই সংখ্যা পাঁচ জোড়ায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক সুজিত বিশ্বাস জানিয়েছেন, কক্সবাজার রুটে যাত্রীদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সেই চাহিদা পূরণ করতেই মহানগর এক্সপ্রেসকে কক্সবাজার পর্যন্ত বর্ধিত করার প্রস্তুতি চলছে। এতে একদিকে যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাতায়াতের সুযোগ বাড়বে, অন্যদিকে রেলওয়ের আয়ও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্তমানে ঢাকা থেকে কক্সবাজারে দুটি জোড়া আন্তনগর ট্রেন—কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস—চলাচল করছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটেও দুটি জোড়া ট্রেন রয়েছে। মহানগর এক্সপ্রেস যুক্ত হলে ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী সরাসরি ট্রেনের সংখ্যা আরও বাড়বে।
মহানগর এক্সপ্রেসের বিশেষত্ব হলো এর যাত্রাবিরতির বিস্তৃত তালিকা। বর্তমানে ঢাকার কমলাপুর থেকে রাত ৯টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যায় ট্রেনটি। বিমানবন্দরসহ নরসিংদী, ভৈরব বাজার, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কসবা, কুমিল্লা, লাকসাম, নাঙ্গলকোট, ফেনী ও কুমিরায় থামে এটি। ফলে এসব এলাকার যাত্রীরা মহানগর এক্সপ্রেস কক্সবাজার পর্যন্ত চললে সরাসরি পর্যটন শহরে পৌঁছানোর সুযোগ পাবেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, কক্সবাজার পর্যন্ত চলাচল শুরু হলে ট্রেনটির সময়সূচিতেও পরিবর্তন আসবে। তখন কমলাপুর থেকে রাত সাড়ে আটটায় ছাড়ার পর মহানগর এক্সপ্রেস কক্সবাজারে পৌঁছাবে পরদিন সকাল ৬টার দিকে। আর কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে ফিরতি ট্রেন ছাড়বে সকাল ৯টায়। একদিকে পুরো যাত্রায় সময় লাগবে প্রায় সাড়ে ৯ ঘণ্টা।
তবে নতুন রুট চালুর আগে কিছু বিষয়ও খতিয়ে দেখছে রেলওয়ে। কক্সবাজার পর্যন্ত ট্রেন বাড়ানোর ফলে সম্ভাব্য প্রতিবন্ধকতা, পরিচালনাগত সমস্যা এবং কক্সবাজারে ট্রেনটির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা কীভাবে করা হবে—এসব বিষয় নিয়ে চলছে যাচাই-বাছাই।
সব প্রস্তুতি শেষ হলে মহানগর এক্সপ্রেসের কক্সবাজারযাত্রা শুধু ট্রেনের সংখ্যা বাড়াবে না, বরং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটন নগরীতে সরাসরি যাতায়াতের সুযোগও আরও সহজ করবে। বিশেষ করে নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও ফেনীর মতো জেলার যাত্রীদের জন্য এটি হতে পারে কক্সবাজার ভ্রমণের নতুন ও স্বস্তিদায়ক পথ।



