৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | মঙ্গলবারবাংলা: ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
শিক্ষা

ঢাবি শিক্ষকদের মূল্যায়নে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু করল ডাকসু

images (4)

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষকদের মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি করতে চালু হয়েছে নতুন একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম। ‘duevaluation.com’ নামের এই ওয়েবভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের বিভাগের শিক্ষকদের মূল্যায়ন করতে পারবেন।

ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য উম্মে উসওয়াতুন রাফিয়ার উদ্যোগে চালু হয়েছে প্ল্যাটফর্মটি। শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করা ডাকসু নির্বাচনে তার অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।

২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে শুরু করে পরবর্তী ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এই মূল্যায়ন ব্যবস্থায় অংশ নিতে পারবেন। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ই-মেইল ব্যবহার করে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের পর ই-মেইলে পাঠানো একটি কোডের মাধ্যমে প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করা যাবে।

সিস্টেমে প্রবেশের পর শিক্ষার্থীরা শুধু নিজেদের বিভাগের শিক্ষকদের মূল্যায়ন করতে পারবেন। মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীর পরিচয় গোপন রাখা হবে। অর্থাৎ, কোন শিক্ষার্থী কোন শিক্ষককে কীভাবে মূল্যায়ন করেছেন, তা প্রকাশ করা হবে না। তবে শিক্ষার্থীদের দেওয়া মূল্যায়নের সামগ্রিক ফলাফল সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

উদ্যোক্তা উম্মে উসওয়াতুন রাফিয়া জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে অতীতেও বিভিন্ন নীতিমালা ও খসড়া তৈরি হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি।

ডাকসুর কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করলেও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এগোয়নি। এ অবস্থায় নিজের উদ্যোগেই একটি কার্যকর ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বাইরে থেকে উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে বলে এটি কেন্দ্রীয়ভাবে বাধ্যতামূলক করার সুযোগ নেই। ফলে প্ল্যাটফর্মটির কার্যকারিতা অনেকটাই নির্ভর করবে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ওপর।

রাফিয়ার আশা, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সময়ের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মূল্যায়নের একটি প্রকাশ্য তথ্যভাণ্ডার তৈরি হবে।

উদ্যোক্তার মতে, এই উদ্যোগটি ‘রেইট মাই প্রফেসরস’ ধরনের প্ল্যাটফর্ম থেকে অনুপ্রাণিত হলেও এর উদ্দেশ্য কিছুটা ভিন্ন। নির্দিষ্ট কোর্স বা শিক্ষক সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করার পরিবর্তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষকদের বিষয়ে একটি সামগ্রিক ধারণা তৈরি করাই এখানে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

শিক্ষকদের মূল্যায়নের সামগ্রিক ফলাফল প্রকাশ্যে থাকায় এটি শিক্ষার মানোন্নয়নে এক ধরনের ‘এক্সটার্নাল প্রেসার’ হিসেবে কাজ করতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।

রাফিয়া বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিজস্ব উদ্যোগে শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু হলে সেটিই সবচেয়ে কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য হতো। কিন্তু প্রশাসনিক পর্যায়ে বিষয়টি এখনো বিভিন্ন সভা ও পর্যালোচনার মধ্যে থাকায় তার ডাকসু মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অন্তত একটি কার্যকর ব্যবস্থা চালু করার চেষ্টা করেছেন তিনি।

তবে ‘duevaluation.com’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত বা কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত কোনো প্ল্যাটফর্ম নয়। ফলে এর মূল্যায়ন পদ্ধতি, সংগৃহীত তথ্য যাচাই এবং ভবিষ্যতে এসব তথ্য কীভাবে ব্যবহৃত হবে—এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এখনো জানা যায়নি।

প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সময় কোনো শিক্ষার্থী সমস্যায় পড়লে ডাকসুর নির্ধারিত ই-মেইলে যোগাযোগ করতে পারবেন। সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তা।

শিক্ষক মূল্যায়নের মতো সংবেদনশীল একটি প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের পাশাপাশি মূল্যায়নের নিরপেক্ষতা, তথ্যের গোপনীয়তা ও ফলাফলের যথাযথ ব্যবহারের বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এখন দেখার বিষয়, নতুন এই উদ্যোগটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থায় কতটা কার্যকর পরিবর্তন আনতে পারে।

Advertisements