৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | বুধবারবাংলা: ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩
নারী

১,৯১২ কোটি টাকা জিতেও অর্ধেকের বেশি দান করলেন ফ্রান্সেস

women-won-lottery-and-gave-away

এক রাতেই বদলে গিয়েছিল জীবন। লটারিতে জিতেছিলেন ১১ কোটি ৫০ লাখ ব্রিটিশ পাউন্ড—বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৯১২ কোটি টাকা। এত বিপুল অর্থ হাতে আসার পর যেখানে বিলাসী জীবনযাপনের স্বপ্ন দেখেন অনেকে, সেখানে ফ্রান্সেস কনলি বেছে নিয়েছেন সম্পদের একটি বড় অংশ মানুষের কল্যাণে ব্যয় করার পথ।

২০১৯ সালে স্বামী প্যাডিকে সঙ্গে নিয়ে ইউরোমিলিয়ন্সের বিশাল জ্যাকপট জেতেন ফ্রান্সেস। রাতারাতি বিপুল সম্পদের মালিক হলেও অর্থ তার জীবনদর্শন খুব একটা বদলে দিতে পারেনি। বরং পরিবার ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার পর অতিরিক্ত অর্থ সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

সাবেক সমাজকর্মী ও শিক্ষিকা ফ্রান্সেস লটারি জেতার পর প্রথমেই সন্তান ও পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। এরপর স্বামীর সঙ্গে মিলে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে অর্থ ব্যয় শুরু করেন। এখন পর্যন্ত তারা প্রায় ৮৮৫ কোটি টাকা দান করেছেন বলে জানা গেছে।

দান কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত করতে এই দম্পতি একটি দাতব্য ট্রাস্টও প্রতিষ্ঠা করেছেন। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই কাজে মার্কিন গায়িকা ও সমাজসেবী ডলি পার্টনের কর্মকাণ্ড তাকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছে বলে জানান ফ্রান্সেস।

এত বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার পরও ফ্রান্সেস ও প্যাডির দৈনন্দিন জীবনযাপনে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। উত্তর-পূর্ব ইংল্যান্ডে তারা এখনো তুলনামূলক সাদামাটা জীবন কাটান। প্রশস্ত বাড়িতে থাকেন, আরামদায়ক ভ্রমণও করেন; তবে অপ্রয়োজনীয় বিলাসিতায় তাদের আগ্রহ নেই।

নতুন ও দামি জিনিস কেনার চেয়ে ব্যবহৃত বা সেকেন্ড-হ্যান্ড জিনিস ব্যবহার করতেও তারা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। ঘড়ি কিংবা গাড়ির মতো জিনিসও পুরোনো বা ব্যবহৃত কিনতে তাদের আপত্তি নেই।

নিজের সম্পদ দান করার সিদ্ধান্তের পেছনে ফ্রান্সেসের রয়েছে একটি সহজ জীবনদর্শন। তার মতে, একজন মানুষ জীবনে কী অর্জন করতে চান, তার ওপরই অর্থ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত অনেকটা নির্ভর করে।

কেউ যদি বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি হওয়া কিংবা ক্ষমতাবানদের ওপর প্রভাব বিস্তার করাকে জীবনের লক্ষ্য মনে করেন, তাহলে সম্পদ নিজের কাছে রেখে দেওয়াই তার কাছে স্বাভাবিক হতে পারে। কিন্তু নিজের প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সম্পদ হাতে এলে তা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়াকে ফ্রান্সেস দেখেন মানুষের স্বাভাবিক ও মানবিক প্রবণতা হিসেবে।

লটারি জেতার সময় ফ্রান্সেসের বয়স ছিল ৫০-এর কোঠায়। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করার পর বিপুল অর্থ শুধু নিজের জন্য জমিয়ে রাখার কোনো অর্থ খুঁজে পাননি তিনি। বরং সেই অর্থ দিয়ে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারাকে নিজের সৌভাগ্য বলেই মনে করেন।

উত্তর আয়ারল্যান্ডে বেড়ে ওঠা ফ্রান্সেস ১৯৯০ সালে চাকরির সুবাদে ইংল্যান্ডের হার্টলপুলে চলে আসেন। এরপর ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে সেখানেই বসবাস করছেন।

হঠাৎ পাওয়া বিপুল সম্পদকে নিজের জীবন বদলে দেওয়ার হাতিয়ার না বানিয়ে তিনি তা ব্যবহার করছেন নিজের আশপাশের মানুষের জীবন কিছুটা সহজ করতে। স্থানীয় সুবিধাবঞ্চিত মানুষ ও সম্প্রদায়ের জন্য কাজ করতে পারাটাকেই এখন তিনি এই অর্থ পাওয়ার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখেন।

এক রাতের লটারির ভাগ্য তাকে কোটিপতি করেছে ঠিকই, কিন্তু সেই সম্পদ কীভাবে ব্যবহার করবেন—সেই সিদ্ধান্তই ফ্রান্সেস কনলির গল্পটিকে করে তুলেছে আরও মানবিক ও অনুপ্রেরণাদায়ক।

Advertisements