৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | সোমবারবাংলা: ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
শিক্ষা

১৪ হাজার শিক্ষকের পদায়ন, আপাতত বন্ধ বদলি

sik-(1)-20260907082456

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। যোগদানের অপেক্ষায় থাকা নতুন ১৪ হাজারের বেশি সহকারী শিক্ষককে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে পদায়ন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে। এরপর আবারও শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি স্থগিতের বিষয়টি জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, নতুন করে ১৪ হাজারের বেশি শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। তাদের পদায়ন সম্পন্ন করার স্বার্থেই আপাতত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সব ধরনের বদলি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। নতুন শিক্ষকদের পদায়ন শেষ হলে পুনরায় বদলি কার্যক্রম শুরু করা হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ পাওয়া ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে আগামী ১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করতে বলা হয়েছে। যোগদানের পর ৪ অক্টোবর তাদের পদায়ন দেওয়া হবে।

নতুন শিক্ষকদের পদায়নকে কেন্দ্র করেই বদলি কার্যক্রম স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে যোগ দিলে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট ও শূন্য পদের পরিস্থিতি কিছুটা সমন্বয় করা সম্ভব হবে। এরপর বিদ্যমান শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হবে।

এর আগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন করা হতো। অনলাইনে আবেদন গ্রহণ থেকে শুরু করে যাচাই-বাছাই ও আবেদন নিষ্পত্তির কাজও করা হয়েছে। তবে গত ২১ জুন বদলি প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

ওই দিন জারি করা মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে শিক্ষক বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তির জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা, উপজেলা বা থানা পর্যায়ে এসব কমিটি গঠন করা হয়েছে। ফলে আগের অনলাইনভিত্তিক বদলি ব্যবস্থার পাশাপাশি আবেদন যাচাই ও নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তন আসে।

এদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক পদে বড় ধরনের শূন্যতার কথাও জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রায় সাড়ে ৩৪ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।

প্রধান শিক্ষক পদে এসব শূন্যতা পূরণের জন্য পদোন্নতি ও নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। পদোন্নতি ও নিয়োগের মাধ্যমে শূন্য পদগুলো পূরণের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ সাল থেকে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল চালু করার আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানো এবং তাদের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

Advertisements