সাত মাসে ২ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ, উদ্বেগ মহিলা পরিষদের

দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিশু নিখোঁজ ও গুমের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে একের পর এক শিশু নিখোঁজের ঘটনায় উদ্বিগ্ন সংগঠনটি। নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত খুঁজে বের করতে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো এবং এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধী চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে তারা।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম ও সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগের কথা জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই—এই সাত মাসে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের ঘটনায় ১৫ হাজার ২৪৩টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ শিশুকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনো ১ হাজার ৯৭০ শিশুর সন্ধান মেলেনি।

তবে পুলিশের প্রকাশিত তথ্যের সামগ্রিক হিসাবে, একই সময়ে শিশু নিখোঁজের ঘটনায় মোট ১৫ হাজার ৭১৭টি জিডির তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে অথবা তারা পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু।
মহিলা পরিষদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে শিশু নিখোঁজ ও গুমের ঘটনা চলতে থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। একই সঙ্গে এসব ঘটনা দেশের সামাজিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।
নিখোঁজ শিশুদের কেউ পাচারকারী চক্রের হাতে পড়ছে কি না, কিংবা কোনোভাবে অপরাধজগতের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে কি না—এ নিয়েও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। হঠাৎ করে শিশু নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাগুলো শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিদ্যমান দুর্বলতাগুলোও সামনে নিয়ে আসছে।
বিভিন্ন ঘটনার ধরন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, অনেক শিশু বাড়ির সামনে খেলতে গিয়ে, স্কুল থেকে ফেরার পথে কিংবা নানা ধরনের প্রলোভনের শিকার হয়ে নিখোঁজ হচ্ছে। কেউ কেউ আবার অপরিচিত জায়গায় গিয়ে পথ হারিয়ে পরিবারের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।
মহিলা পরিষদ মনে করে, নিখোঁজ হওয়ার প্রতিটি ঘটনা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন। শুধু নিখোঁজ শিশুকে উদ্ধার করাই নয়, কেন এবং কীভাবে সে নিখোঁজ হলো, এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করছে কি না—সেটিও খুঁজে বের করা জরুরি।
নিখোঁজ শিশুদের সন্ধানে প্রশাসনের নজরদারি আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। পাশাপাশি শিশু নিখোঁজের সঙ্গে জড়িত অপরাধী চক্রকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
একটি শিশুর নিখোঁজ হওয়া শুধু একটি পরিবারের উদ্বেগের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি শিশুর নিরাপত্তা, ভবিষ্যৎ এবং একটি পরিবারের দীর্ঘ অপেক্ষা। তাই নিখোঁজ প্রতিটি শিশুকে দ্রুত পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি শিশুদের জন্য আরও নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।



