বাংলাদেশি ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা, পালাতে গিয়ে ভবন থেকে পড়ে ভারতীয় নিপীড়কের মৃত্যু

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে এক বাংলাদেশি ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ওই ছাত্রীকে একা পেয়ে তার সঙ্গে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করার পর পালানোর সময় বহুতল ভবন থেকে পড়ে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) অন্ধ্রপ্রদেশের আনাকাপল্লী জেলার অচ্যুতাপুরম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইটিভি ভারতের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী বাংলাদেশি ছাত্রী ফার্মেসিতে স্নাতক পর্যায়ে পড়াশোনা করছেন। সম্প্রতি তিনি অচ্যুতাপুরম এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। ওই বাসায় তার সঙ্গে স্থানীয় এক ব্যক্তি থাকতেন। তিনি একটি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিতে চাকরি করেন।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই ছাত্রীর বাসার পাশের একটি বহুতল ভবনে ভাড়া থাকতেন ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা কমলেশ যাদব (৪৩)। তিনি স্থানীয় একটি মদের দোকানে কর্মরত ছিলেন। ওই দোকানের সামনে দিয়ে যাতায়াতের সময় বেশ কয়েকবার তিনি ওই বাংলাদেশি ছাত্রীকে দেখেছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনার দিন ছাত্রীর এক পুরুষ সহপাঠী বা বন্ধু কাজে বাইরে গেলে বাসায় একা ছিলেন তিনি। এই সুযোগে কমলেশ যাদব ওই বাসায় যান বলে অভিযোগ। শৌচাগার পরিষ্কার করে দেওয়ার কথা বলে তিনি বাসার ভেতরে কিছুক্ষণ অবস্থান করেন।
পুলিশের অভিযোগের বর্ণনা অনুযায়ী, একপর্যায়ে যাদব ওই ছাত্রীর সঙ্গে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করেন। এতে ছাত্রী বাধা দিলে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে সুযোগ পেয়ে ওই শিক্ষার্থী বাসা থেকে বেরিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যান। পরে তিনি স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাকে বিষয়টি জানান।
এদিকে, ওই ছাত্রী বাসা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি বুঝতে পেরে যাদবও সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি বহুতল ভবনটির একটি পিলার বেয়ে নিচে নামার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু নিচে নামার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিনি পড়ে যান।
ভবন থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন যাদব। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশকে বিষয়টি জানান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে যাদবের মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। আনাকাপল্লী জেলা পুলিশের সার্কেল ইন্সপেক্টর চন্দ্রশেখর রাও জানিয়েছেন, পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও অন্যান্য বিষয় তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে।



