৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | সোমবারবাংলা: ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
নারী

‘বান্ধবীকে’ বিয়ের আশায় নারী থেকে পুরুষ হওয়ার চেষ্টা, অপারেশনের পর যুবতীর মৃত্যু

Gemini_Generated_Image_pefvehpefvehpefv

নারী থেকে পুরুষ হওয়ার স্বপ্নে অপর এক যুবতীকে সঙ্গে নিয়ে প্রথম ধাপ স্তন অপারেশন করেছিলেন রোজি আক্তার লিজা (৩১) নামের এক যুবতী। অপারেশনের কয়েক ঘণ্টা পরে তার (লিজা) মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে তার পরিবার।

মৃত লিজা বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব হাওলাদারের (রব রাজ) মেয়ে।

ঢাকার পান্থপথ গ্রীণ রোডের ‘ইউনিহেলথ স্পেশালাইজড হাসপাতালে’ গত ৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে অপারেশনের পর রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে চারটার দিকে লিজার মৃত্যু হয়েছে।

ওইদিন বিকেলে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ নিয়ে আসলে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। পরবর্তীতে তড়িঘড়ি করে সন্ধ্যার মধ্যেই লিজাকে দাফন করা হয়েছে।

সরেজমিনে এলাকাবাসী ও মৃতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রোজি আক্তার লিজা মেয়ে হলেও ছেলেদের মতো আচরণ করতো। ছেলেদের মতো চুল কাটাতো। তার (লিজা) বাড়িতে ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা জেমিনি ওরফে জেনিফা আক্তার নামের এক যুবতীর আনাগোনা ছিল। ওই যুবতীকে সে (লিজা) স্ত্রী হিসেবে মনে করতো। এমনকি ওই যুবতীও লিজাকে তার স্বামী হিসেবে দেখাশোনা করতো।

সূত্রমতে, প্রায় তিনবছর আগে একই সম্পর্কে লিজা তার আপন ভাইয়ের স্ত্রীকে নিয়ে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছিলো। পরবর্তীতে তারা আবারও বাড়িতে ফিরে আসে। এরপর জেনিফার সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিজার পরিচয় হয়। এরপর থেকে জেনিফা প্রায়ই লিজাদের বাড়িতে এসে মাসের পর মাস একসঙ্গে বসবাস করতো। বিষয়টি লিজার বাবা ও মা জানলেও জেনিফা কৌশলে তাদের আপন করে নেয়ায় তারা মুখ বুঝে সব সহ্য করে গেছেন।

Advertisements

জেমিনি ওরফে জেনিফা আক্তার জানান, তারা একে অপরের বাসায় বেড়াতো। একসঙ্গে থাকতো। লিজা ঢাকায় হরমোনের চিকিৎসা করাতো। লিজার মা, বাবা ও বোন স্তন অপারেশনের জন্য দেড় লাখ টাকা দিয়েছেন। ওই টাকা দিয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার পান্থপথের ইউনিহেলথ স্পেশালাইড হাসপাতালে সরফরাজ নাম দিয়ে লিজাকে ভর্তি করা হয়। সেখানে অপারেশনের আগে সম্মতিপত্রে লিজার স্ত্রী হিসেবে তিনি (জেনিফা) স্বাক্ষর করেছেন।

মেয়ে হয়ে আরেকজন মেয়ের স্ত্রী পরিচয়ে সম্মতিপত্রে স্বাক্ষরের বিষয়ে জেনিফা দাবি করেন, লিজার মা ও বাবার সম্মতি নিয়ে স্বাক্ষর করা হয়েছে।

তবে মৃত রোজীর বাবা আব্দুর রব হাওলাদার বলেন, ‘সে (জেনিফা) যে স্বাক্ষর করবে, তার স্বাক্ষরে যে অপারেশন হবে সে বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। এমনকি লিজার নাম যে সরফরাজ রাখা হয়েছে তা আজই কেবল জেনেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘লিজা অপারেশন করে পুরুষ হয়ে জেনিফাকে বিয়ে করবে এমনটা ওর (লিজা) মায়ের কাছে শুনেছি।’

আক্ষেপ করে আব্দুর রব বলেন, ঘরের যেকোনো বিষয়ে আমার কোনো পরামর্শ নেওয়া হয় না। ঘরের সব সদস্যরা আমাকে আলাদা চোখে দেখে।

মৃত লিজার মা ফজিলা বেগম বলেন, ‘আমার মেয়ে লিজা ছোট বেলা থেকেই কোনো ছেলেকে পছন্দ করতো না। তাকে জোর করে দুইবার বিয়ে দেওয়া হয়েছিলো। কোথাও সে (লিজা) সংসার করেনি। ছেলেদের সাথে সঙ্গ দেওয়া কিংবা ঘর সংসার করার কোন মনমানসিকতাই তার ছিল না।’

তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিন থেকে জেনিফা আমাদের বাড়িতে এসে লিজার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী হিসেবে বেড়াত। এই কারণে লিজার অপারেশনের দায়িত্ব আমরা জেনিফার ওপর ছেড়ে দিয়েছিলাম।’

এ ধরনের কর্মকাণ্ড ইসলাম সমর্থন করে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইসলাম সমর্থন করে না জানি। তবে মোবাইলে এসব ঘটনা এখন শত শত দেখা যায়। 

অন্যদিকে ইউনিহেলথ স্পেশাইলজড হাসপাতাল থেকে দেওয়া মৃত্যু সনদে দেখা গেছে, গত ৩ সেপ্টেম্বর তাকে (লিজা) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সনদপত্রে লিজার নাম সরফরাজ এবং পুরুষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে মৃত্যু সনদপত্রে দেওয়া হাসপাতালের নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে লিমন নামের এক ব্যক্তি নিজেকে এডমিন পরিচয় দেন। তার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জিএম-এর সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

পরবর্তীতে ইউনিহেলথ স্পেশাইলজড হাসপাতালের জিএম বিশ্বজিত বৈদ্যের কাছে সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

এসময় তিনি যে চিকিৎসকের অধীনে ওই রোগী (লিজা) ভর্তি হয়েছেন, ওই চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

পরে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ডা. মাহমুদুল হাসানকে ফোন করা হলে ব্যস্ততা দেখিয়ে ‘পরে ফোন করব’ বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এরপর তাকে একাধিকবার চেষ্টা করেও তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

Advertisements