৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | রবিবারবাংলা: ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
বিনোদন

‘ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাবে’- যে সিনেমার জন্য অভিনেত্রীকে শুনতে হয়েছে এমন কথা

‘ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাবে’- যে সিনেমার জন্য অভিনেত্রীকে শুনতে হয়েছে এমন কথা

বলিউডে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকেই ‘রাজ’ ও ‘আজনবী’র মতো সফল সিনেমায় অভিনয় করে পরিচিতি পান বিপাশা বসু। মাত্র তিন বছরের ক্যারিয়ারে তখনই মহেশ ভাটের ‘জিসম’ সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব পান তিনি। সিনেমাটিতে একাধিক আবেদনময়ী দৃশ্য থাকায় বিপাশাকে সতর্ক করেছিলেন ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই। তাদের আশঙ্কা ছিল, ‘জিসম’-এ অভিনয় করলে তার ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যেতে পারে।

সম্প্রতি ‘এলে’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই সময়ের কথা স্মরণ করেছেন বিপাশা। তিনি বলেন, ‘ইন্ডাস্ট্রির সবাই আমাকে বলেছিল, এই সিনেমায় অভিনয় করো না। তারা বলেছিল, এমন যৌন আবেদনময়ী দৃশ্যের সিনেমায় অভিনয় করলে আমার ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু আমার কথা ছিল আমি একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ। এটি প্রাপ্তবয়স্কদের প্রেমের গল্প। সিনেমাটিও প্রাপ্তবয়স্ক দর্শকদের জন্য তৈরি। এই চরিত্রের নানা দিক আমার খুব ভালো লেগেছিল। আমি জানতাম, আমিএটা করবোই।’

২০০৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘জিসম’-এ বিপাশার চরিত্রের নাম ছিল সোনিয়া। সিনেমাটিতে তার অভিনয় সে সময় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। প্রচলিত হিন্দি সিনেমার নায়িকার ইমেজ থেকে বেরিয়ে ভিন্ন ধরনের চরিত্রে নিজেকে উপস্থাপন করেন তিনি।

বিপাশার মতে, ‘জিসম’ শুধু তার অভিনয়জীবনে পরিবর্তন আনেনি, বলিউডে নারীদের সৌন্দর্য ও পর্দায় উপস্থাপনের ধরনেও প্রভাব ফেলেছিল।

তিনি বলেন, ‘হঠাৎ করে ঢেউ খেলানো চুল, মোটা কাজল, ব্রোঞ্জ রঙের ত্বক, সাদা পোশাক, সমুদ্রসৈকত—সবকিছুই জনপ্রিয় হয়ে উঠল। আমার লুক পুরোপুরি বদলে গেল এবং মানুষ সাহসী উপস্থাপনাকে গ্রহণ করতে শুরু করল। আমার মনে হয়, সেই সময়ে আমি এমন কিছু কাজ করেছি, যা আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে একজন নারীকে দেখার ধরন আরও ভালোভাবে বদলে দিয়েছিল। শুধু ভিন্ন কিছু করেছি তা নয়, মানুষ আমাকে ভিন্নভাবেও গ্রহণ করতে শুরু করেছিল।’

এর আগে ‘হিন্দুস্তান টাইমস’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও ‘জিসম’ নিয়ে কথা বলেছিলেন বিপাশা। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, প্রচলিত হিন্দি সিনেমার নায়িকার ইমেজ থেকে বেরিয়ে আসতেই এই সিনেমায় অভিনয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

বিপাশা বলেছিলেন, ‘জিসম করার সময় আমি ক্যারিয়ারের শীর্ষে ছিলাম। সবাই বলেছিল, তুমি প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তৈরি সিনেমায় অভিনয় করতে পারবে না। তুমি তো হিন্দি সিনেমার সেই প্রচলিত নায়িকা, যাকে মানুষ হৃদয়ে জায়গা দিয়েছে। কিন্তু আমার গল্পটি এত ভালো লেগেছিল যে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, সিনেমাটি করব। সবাই আমাকে আটকানোর চেষ্টা করেছিল। এমনকি আমার ম্যানেজারও ভেবেছিলেন, আমি পাগল হয়ে গেছি।’

অভিনেত্রীর দাবি, সিনেমাটি সফল হওয়ার পর নারীদের চরিত্র নিয়ে বলিউডের প্রচলিত ধারণাতেও পরিবর্তন আসে। বিশেষ করে নেতিবাচক বা ধূসর চরিত্রে নারীদের অভিনয় নিয়ে দর্শকের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে শুরু করে।

বিপাশা বলেন, ‘সিনেমাটি আমার জন্য কাজ করেছিল এবং এরপর অনেক কিছু বদলে যায়। নারীরা চুলে কার্ল করতে শুরু করলেন, ব্রোঞ্জ লুক জনপ্রিয় হলো। একজন নারী নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করতে পারবেন না—এমন প্রচলিত ধারণাও আর সেভাবে থাকল না। আমার জন্য এটি ছিল একটি যুগান্তকারী সিনেমা।’

মহেশ ভাটের লেখা ও অমিত সাক্সেনা পরিচালিত ‘জিসম’-এ বিপাশার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন জন আব্রাহাম। বক্স অফিসেও সফল হয়েছিল সিনেমাটি। ‘জিসম’-এর পর বিপাশার ক্যারিয়ারে আরও বেশ কিছু ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ তৈরি হয়।

সূত্র: এনডিটিভি

Advertisements