৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | শনিবারবাংলা: ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
বিবিধ

ছয় দিন পর পানির নিচ থেকে জেগে উঠল রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু

11-20260905122458

টানা ছয় দিন পানির নিচে থাকার পর অবশেষে কাপ্তাই হ্রদের পানি থেকে দৃশ্যমান হয়েছে রাঙামাটির অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ ঝুলন্ত সেতু। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশনের ম্যানেজার আলোক বিকাশ চাকমা।

তিনি জানান, শুক্রবার বিকেলের দিকে সেতুর ওপর থেকে পানি সরে যায়। এরপর সেতুটি সংস্কার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু করা হয়েছে। বর্তমানে পর্যটকদের সেতুতে চলাচলের জন্য কোনো প্রবেশমূল্য নেওয়া হচ্ছে না।

আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, সেতু থেকে পানি সরে যাওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পর্যটকদের প্রবেশে জারি করা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের নির্দেশনা পাওয়ার পর নিয়মিতভাবে টিকিট আদায় শুরু হবে।

এর আগে টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানি দ্রুত বেড়ে যায়। এতে গত ২৯ আগস্ট ঝুলন্ত সেতুটি পানিতে তলিয়ে যায়। একই সময়ে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলও প্লাবিত হয়।

পরিস্থিতির অবনতি ও পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ২৯ আগস্ট দুপুর থেকেই ঝুলন্ত সেতুতে প্রবেশ ও চলাচল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।

পানির উচ্চতা কমাতে ওই দিন রাত ৮টার দিকে কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের গেটগুলো ৬ ইঞ্চি করে খুলে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হতে শুরু করে। পরে রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে ১৬টি গেট দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১৮ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা হয়।

পরদিন ৩০ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে কাপ্তাই বাঁধ দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৫৮ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে ছাড়া শুরু হয়। এই পানি নিষ্কাশন কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে।

রাঙামাটি সদর উপজেলার তবলছড়ি এলাকায় কাপ্তাই হ্রদের ওপর নির্মিত ঝুলন্ত সেতুটি স্থানীয় পর্যটনের অন্যতম পরিচিত প্রতীক। পর্যটন করপোরেশন ১৯৮৬ সালে দুই পাহাড়ের মাঝখানে সেতুটি নির্মাণ করে।

প্রায় ৩৩৫ ফুট দীর্ঘ এই দৃষ্টিনন্দন সেতুটি দুটি পিলারের ওপর স্থাপিত। স্থলপথের পাশাপাশি জলপথেও এখানে সহজে যাতায়াত করা যায়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে সেতুটির অবস্থান রাঙামাটির পর্যটন আকর্ষণকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে পরিচিত এই স্থাপনাটি বর্তমানে ‘সিম্বল অব রাঙামাটি’ হিসেবে পরিচিত।

Advertisements