বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বিনোদন

শতবর্ষে মহানায়ক উত্তম কুমার, দুই বাংলায় আজও অমলিন তার স্মৃতি

IMG_4359

বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কিছু নাম সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যায় না, বরং প্রজন্মের পর প্রজন্মে আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। মহানায়ক উত্তম কুমার তেমনই এক কিংবদন্তি। অভিনয়গুণ ও অনন্য ব্যক্তিত্ব দিয়ে তিনি শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, বাংলাদেশেও কোটি দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন।

১৯২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কলকাতায় অরুণ কুমার চট্টোপাধ্যায় নামে জন্মগ্রহণ করেন উত্তম কুমার। সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে তিনি পরবর্তী সময়ে বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী অভিনেতায় পরিণত হন।

চিত্রনায়িকা সুচিত্রা সেনের সঙ্গে তার জুটি বাংলা সিনেমায় এক অনন্য অধ্যায়ের জন্ম দেয়। ‘সপ্তপদী’, ‘হারানো সুর’, ‘সাগরিকা’, ‘সবার উপরে’ ও ‘চাওয়া পাওয়া’র মতো অসংখ্য কালজয়ী সিনেমায় তাদের অভিনয় আজও দর্শকদের মুগ্ধ করে।

তবে শুধু রোমান্টিক চরিত্রেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না উত্তম কুমার। সত্যজিৎ রায়ের ‘নায়ক’ ও ‘চিড়িয়াখানা’ এবং ‘ঝিন্দের বন্দী’র মতো সিনেমায় ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করে নিজের বহুমুখী প্রতিভার প্রমাণ দেন তিনি। বিশেষ করে ‘নায়ক’ সিনেমায় তার অভিনয় ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম সেরা অভিনয় হিসেবে বিবেচিত হয়।

অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালক ও প্রযোজক হিসেবেও কাজ করেছেন উত্তম কুমার। সংগীতের প্রতিও ছিল তার আগ্রহ। চলচ্চিত্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার অবদান তাকে বাংলা সিনেমার ইতিহাসে আরও অনন্য করে তুলেছে।

১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই মাত্র ৫৩ বছর বয়সে মারা যান এই কিংবদন্তি অভিনেতা। তার মৃত্যুর চার দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও কমেনি তার জনপ্রিয়তা কিংবা প্রভাব।

আজ তার জন্মশতবর্ষে দুই বাংলার অসংখ্য ভক্ত ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করছেন বাংলা চলচ্চিত্রের সেই চিরসবুজ মহানায়ককে।