বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বিনোদন

কেন দিনে ১৮ ঘণ্টা কাজ করতেন প্রীতি জিনতা?

1520200140665

বলিউডে কাজের চাপ, দীর্ঘ শুটিং শিডিউল এবং ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে কাজের ভারসাম্য—বিষয়গুলো নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন ও পরিচালক সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গার মধ্যে শুটিংয়ের সময় নিয়ে মতপার্থক্যের পর বিষয়টি আরও বেশি আলোচনায় আসে। সেই জের ধরে প্রভাস অভিনীত ‘স্পিরিট’ সিনেমা থেকেও সরে দাঁড়ান দীপিকা।

ওই সময় দিনে আট ঘণ্টার বেশি কাজ না করা, পারিশ্রমিক এবং সিনেমার লাভের অংশ নিয়ে অভিনেত্রীর কিছু দাবি ছিল। কাজের সময়সীমা নিয়েই পরিচালকের সঙ্গে তার মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল।

সন্তানের জন্মের পর কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতেই দীপিকা শুটিংয়ের সময় কমানোর বিষয়ে জোর দিয়েছিলেন বলে জানা যায়। বর্তমানে দ্বিতীয় সন্তানের অপেক্ষায় রয়েছেন এই অভিনেত্রী।

এবার দীর্ঘ সময় ধরে শুটিং করা এবং কাজের চাপ নিয়ে মুখ খুললেন বলিউডের একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী প্রীতি জিনতা। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) আসন্ন সিনেমা ‘ভাইব’-এর ঝলক প্রকাশ অনুষ্ঠানে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান তিনি।

দীর্ঘ শুটিং শিডিউল যে কতটা কঠিন হতে পারে, তা নিজের ক্যারিয়ার থেকেই জানেন প্রীতি। তবে তার ক্ষেত্রে দিনে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করার পেছনে কারণটি ছিল একটু ভিন্ন। ব্যস্ত শিডিউলের কারণে নয়, বরং যত দ্রুত সম্ভব কাজ শেষ করে সন্তানদের কাছে ফিরতেই তিনি এত দীর্ঘ সময় কাজ করতেন।

‘ভাইব’ সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন কুণাল খেমু। অনুষ্ঠানে নিজের কাজের সময় প্রসঙ্গে প্রীতি বলেন, প্রত্যেক শিল্পীর কাজের পরিস্থিতি একরকম নয়। তিনি নিজেও একটা সময় দিনে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করেছেন।

তবে সেই দীর্ঘ সময় কাজ করার কারণ ব্যাখ্যা করে প্রীতি জানান, তিনি ভারতে এসে যত দ্রুত সম্ভব সিনেমার কাজ শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যেতে চাইতেন। কারণ সেখানে তার সন্তানরা অপেক্ষা করত।

অভিনেত্রীর ভাষ্য, তার মাথায় তখন একটাই বিষয় কাজ করত—যত দ্রুত সম্ভব কাজ শেষ করতে হবে এবং এরপরই আমেরিকায় ফিরে সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটাতে হবে। তাই প্রয়োজন হলে দীর্ঘ সময় ধরে শুটিং করতেও আপত্তি ছিল না তার।

প্রীতি বলেন, ‘প্রত্যেকের কাজের পরিস্থিতি আলাদা। আমি অবশ্যই দিনে ১৮ ঘণ্টা কাজ করেছি।’

এরপর নিজের সেই সময়ের কথা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘কারণ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এখানে আমার কাজ শেষ করে আমেরিকায় ফিরে সন্তানদের সঙ্গে থাকতে চেয়েছিলাম। আমার মাথায় একটাই কথা থাকত—আমি আসব, কাজ শেষ করব, ব্যস! আমার কাজটা তাড়াতাড়ি শেষ করে দাও। তারপরই আমি আমেরিকা চলে যাব। এটাই ছিল আমার ১৮ ঘণ্টা কাজের কারণ।’

প্রীতির কথায় স্পষ্ট, দীর্ঘ সময় কাজ করার পেছনে তার কাছে মূল বিষয় ছিল সন্তানদের সঙ্গে যতটা সম্ভব বেশি সময় কাটানো। অর্থাৎ কাজের চাপকে প্রাধান্য দেওয়ার চেয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দায়িত্ব শেষ করে পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়াকেই গুরুত্ব দিতেন অভিনেত্রী।

বলিউডে কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য নিয়ে যখন নতুন করে বিতর্ক চলছে, তখন প্রীতির এই অভিজ্ঞতা আলোচনায় যোগ করেছে ভিন্ন এক মাত্রা। একই দীর্ঘ কর্মঘণ্টা হলেও একজন শিল্পীর কাছে তার কারণ ও পরিস্থিতি যে সম্পূর্ণ আলাদা হতে পারে, সেটিই নিজের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তুলে ধরলেন প্রীতি জিনতা।

Advertisements