সমান সুযোগ, নিরাপত্তা ও মর্যাদা: নারী ক্রীড়ায় বাংলাদেশের নতুন অঙ্গীকার

নারীদের জন্য ক্রীড়াঙ্গনকে আরও নিরাপদ, সমতাভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলতে আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারে যুক্ত হলো বাংলাদেশ। নারী ক্রীড়ার উন্নয়ন, সমান সুযোগ, নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘ব্রাইটন অ্যান্ড হেলসিঙ্কি ডিক্লারেশন’-এ স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থা।
বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা। অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্য থেকে ভার্চুয়ালি অংশ নেন ‘ওয়ার্কিং গ্রুপ অন উইমেন অ্যান্ড স্পোর্টস’ (IWG)-এর মহাসচিব লিসা ও’কিফ এমবিই।
ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরের বিষয়টিকে বাংলাদেশের নারী ক্রীড়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন সারওয়াত সিরাজ শুক্লা। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে দেশের নারী ক্রীড়াঙ্গনকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার পাশাপাশি নারী ক্রীড়াবিদদের সমান সুযোগ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পথ আরও সুগম হবে।
তিনি বলেন, ক্রীড়াঙ্গনকে নারীদের জন্য নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও পেশাদার পরিবেশে পরিণত করতে ‘ব্রাইটন অ্যান্ড হেলসিঙ্কি ডিক্লারেশন’ একটি কার্যকর নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করতে পারে। বিশেষ করে ক্রীড়া-সংক্রান্ত নীতি ও অবকাঠামো তৈরির ক্ষেত্রে লিঙ্গ সংবেদনশীলতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
নারী ক্রীড়াবিদদের সুরক্ষার ওপরও জোর দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, খেলাধুলায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পাশাপাশি তাঁদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ক্রীড়া উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি। তিনি জানান, দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে ‘স্পোর্টস ডিপ্লোম্যাসি উইং’ গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্রীড়া ক্ষেত্রে নারী সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয়ভাবে নারী সুরক্ষা কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে IWG-এর মহাসচিব লিসা ও’কিফ বাংলাদেশের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের নারী ক্রীড়ার অগ্রগতি ও নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বিশ্বজুড়ে নারী ক্রীড়াবিদদের অধিকার ও সুযোগ সম্প্রসারণে কাজ করা আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়াকে তিনি প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন।লিসা ও’কিফ আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার এই উদ্যোগ দেশের অন্যান্য ক্রীড়া ফেডারেশনকেও ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরে উৎসাহিত করবে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন খেলায় নারীদের অংশগ্রহণ, নিরাপত্তা ও নেতৃত্বের সুযোগ আরও বিস্তৃত হতে পারে।
নারী ক্রীড়াবিদদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা, সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং ক্রীড়াক্ষেত্রে বৈষম্য কমানো—এসব বিষয়কে সামনে রেখে দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বজুড়ে কাজ করছে নারী ও ক্রীড়া বিষয়ক আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কগুলো। বাংলাদেশের এই ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর সেই বৃহত্তর উদ্যোগের সঙ্গে দেশের নারী ক্রীড়াঙ্গনের একটি আনুষ্ঠানিক সংযোগ তৈরি করল। স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনের পলিটিক্যাল কাউন্সিলর রোজি কম্বি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্পোর্টস ডিপ্লোম্যাসি শাখার প্রধান বি এম জামাল হোসেন, বাংলাদেশ নারী সুরক্ষা কমিটির চেয়ার জোবেরা রহমান লিনু, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শেফাউল কবির এবং বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফ উল্লাহ।
এ ছাড়া বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন, বিকেএসপি, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নারী সুরক্ষা কমিটি এবং বিভিন্ন জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
বাংলাদেশের নারী ক্রীড়ায় আন্তর্জাতিক মানের নীতি ও নিরাপত্তা কাঠামো জোরদারের ক্ষেত্রে এই স্বাক্ষর কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক এই ঘোষণাপত্রে যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে দেশের নারী ক্রীড়াবিদদের জন্য আরও সমান ও নিরাপদ ক্রীড়া পরিবেশ তৈরির একটি নতুন অঙ্গীকার সামনে এলো।



