বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনমঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বিনোদন

তিন দশকের অভিনয়জীবনে কারিশমার উপলব্ধি, শেখার শেষ নেই

Karisma-Kapoor-2-13

বলিউডে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিনয় করছেন কারিশমা কাপুর। কিশোরী বয়সে চলচ্চিত্রে পা রাখা এই অভিনেত্রীর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এসেছে নানা ধরনের চরিত্র, সিনেমা ও কাজের অভিজ্ঞতা। এত বছর পরও তার উপলব্ধি, একজন শিল্পীর শেখার প্রক্রিয়া কখনো শেষ হয় না। সময়ের সঙ্গে নিজেকে বদলে নেওয়া এবং প্রতিটি নতুন অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়াই একজন অভিনেতার সবচেয়ে বড় গুণ বলে মনে করেন তিনি।

সম্প্রতি বোম্বে টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের অভিনয়জীবন ও ক্যারিয়ার নিয়ে কথা বলেন কারিশমা। তার মতে, অভিনয় শুধু একটি চরিত্রে অভিনয় করে সেটি শেষ করে ফেলার বিষয় নয়। প্রতিটি সিনেমা, প্রতিটি চরিত্র এবং শুটিং সেটে কাজের অভিজ্ঞতা একজন শিল্পীকে নতুন কিছু শেখায়। সহশিল্পী, পরিচালক ও অন্যান্য কলাকুশলীদের সঙ্গে কাজ করেও অনেক কিছু শেখা যায়। এই ধারাবাহিক শেখার মধ্য দিয়েই একজন অভিনেতা ধীরে ধীরে আরও পরিণত হয়ে ওঠেন।

মাত্র ১৬ বছর বয়সে অভিনয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন কারিশমা। তার প্রথম সিনেমা ‘প্রেম কায়েদি’ মুক্তি পায় ১৭তম জন্মদিনের মাত্র চার দিন আগে। ফলে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি সময় চলচ্চিত্রের জগতেই কেটেছে তার। অল্প বয়সে কাজ শুরু করার কারণে অভিনয় করতে করতেই জীবনের নানা অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। সাফল্যের পাশাপাশি ব্যর্থতা, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং পেশাগত উত্থান-পতনও তাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে।

নিজের সেই সময়ের কথা মনে করে কারিশমা জানান, খুব অল্প বয়সে কাজ শুরু করায় চলচ্চিত্র অঙ্গনই অনেকটা তার বেড়ে ওঠার জায়গা হয়ে উঠেছিল। ধীরে ধীরে বিভিন্ন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তিনি এগিয়েছেন। এখন পেছনে ফিরে তাকালে তার মনে হয়, জীবনের কিছু বিষয় হয়তো অন্যভাবে করা সম্ভব ছিল। তবে এমন উপলব্ধিই তাকে বুঝিয়েছে যে সময়ের সঙ্গে একজন অভিনেতার চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গিও পরিণত হয়।

দীর্ঘদিন বড় পর্দায় কাজ করার পর সাম্প্রতিক সময়ে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের কনটেন্টেও দেখা গেছে কারিশমাকে। ‘মেন্টালহুড’ ও ‘ব্রাউন’-এর মতো কাজে অভিনয় করে নতুন ধরনের অভিজ্ঞতা পেয়েছেন তিনি। তার মতে, সিনেমা, টেলিভিশন ও ওটিটিতে কাজের ধরন এক নয়। বিশেষ করে ওটিটির কাজকে তার কাছে বেশ চ্যালেঞ্জিং মনে হয়েছে।

ওয়েব সিরিজের শুটিংয়ে একই দিনে গল্পের একেবারে ভিন্ন অংশের দৃশ্য ধারণ করতে হতে পারে বলে জানান কারিশমা। কখনো একটি সিরিজের প্রথম পর্বের কোনো দৃশ্যের পরই সপ্তম পর্বের দৃশ্য ধারণ করতে হয়। ফলে চরিত্রের পরিস্থিতি ও মানসিক অবস্থার সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে। তার মতে, সিনেমার অভিনেতাদের জন্য ওটিটি তাই নিজেকে নতুনভাবে মানিয়ে নেওয়ার একটি অভিজ্ঞতা। কাজের গতি ও পদ্ধতিও এখানে অনেকটাই আলাদা।

Advertisements

নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে খুব বেশি পরিকল্পনা করে এগোননি বলেও জানান কারিশমা। কোনো কাজ করতে ইচ্ছা হলে করেছেন, আবার কোনো কাজ করতে ভালো না লাগলে সেটি করেননি। ক্যারিয়ারের প্রতিটি ধাপ আগে থেকে পরিকল্পনা করে এগিয়ে নেওয়ার চেয়ে নিজের ইচ্ছা ও অনুভূতিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। তবে পরিকল্পনাহীনভাবে পথ চললেও বলিউডে বেশ কিছু স্মরণীয় সিনেমা ও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়াকে নিজের সৌভাগ্য বলে মনে করেন ‘রাজা হিন্দুস্তানি’খ্যাত এই অভিনেত্রী।

অভিনয়ের পাশাপাশি নাচও কারিশমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বর্তমানে তিনি জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘ইন্ডিয়াজ বেস্ট ড্যান্সার’-এর বিচারকের দায়িত্ব পালন করছেন। তবে নাচের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল আরও অনেক আগে, শৈশবেই। ছোট বোন কারিনা কাপুর খানের সঙ্গে সিনেমার গান শুনে বাড়িতে নাচতেন তারা। বাবা-মায়ের সামনে বিভিন্ন গানের সঙ্গে নাচার সেই দিনগুলোর স্মৃতিও এখনো তার মনে রয়েছে।

শৈশব থেকেই প্রয়াত অভিনেত্রী শ্রীদেবীর বড় ভক্ত ছিলেন কারিশমা। তার অভিনয় ও নাচ তাকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করত। কারিনা ও কারিশমা একসঙ্গে শ্রীদেবীর জনপ্রিয় গান ‘তাথাইয়া তাথাইয়া, নয়নো মে সপ্না’-এর সঙ্গে বাড়িতে নাচতেন বলেও জানান তিনি। কারিশমার কাছে নাচ শুধু বিনোদনের অংশ ছিল না, বরং তার বেড়ে ওঠার সঙ্গেও এটি গভীরভাবে জড়িয়ে ছিল।

কাপুর পরিবারেও নাচের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে বলে মনে করেন কারিশমা। শাম্মী কাপুর, ঋষি কাপুর ও শশী কাপুর—পরিবারের এই অভিনেতাদের প্রত্যেকেরই ছিল নিজস্ব নাচের ধরন। তাঁদের অভিনয়ের পাশাপাশি নাচও দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় ছিল। ফলে ছোটবেলা থেকেই কাপুর পরিবারের সংস্কৃতিতে নাচ একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে আছে।

তিন দশকের বেশি সময় ধরে বলিউডে কাজ করার পরও নতুন কিছু শেখার আগ্রহ ধরে রেখেছেন কারিশমা কাপুর। তার কাছে অভিনয় এমন একটি যাত্রা, যেখানে প্রতিটি নতুন চরিত্র ও অভিজ্ঞতা একজন শিল্পীকে নতুনভাবে তৈরি করে। সময়ের সঙ্গে নিজেকে বদলানো, নতুন মাধ্যমের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং প্রতিটি কাজ থেকে শিক্ষা নেওয়ার মধ্য দিয়েই একজন অভিনেতার প্রকৃত বিকাশ ঘটে বলে মনে করেন তিনি।

Advertisements