দাখিল-আলিমের ‘সাধারণ শাখা’র নাম পরিবর্তন করে ‘মানবিক’

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন দাখিল ও আলিম স্তরে প্রচলিত ‘সাধারণ শাখা’র নাম পরিবর্তন করে ‘মানবিক শাখা’ করা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের মানবিক শাখার সঙ্গে সামঞ্জস্য তৈরি করা এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত পরিচিতি আরও স্পষ্ট করার লক্ষ্যেই এই নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রার প্রফেসর এস এম তৌহিদুজ্জামানের স্বাক্ষর করা এক বিজ্ঞপ্তিতে শাখার নাম পরিবর্তনের বিষয়টি জানানো হয়। এর আগে গত ২৬ জুলাই অনুষ্ঠিত মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অ্যাকাডেমিক কমিটির সভায় ‘সাধারণ শাখা’র নাম পরিবর্তন করে ‘মানবিক শাখা’ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে শাখার নাম পরিবর্তন হলেও শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও মূল্যায়ন ব্যবস্থায় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষাক্রম, পাঠ্যসূচি, বিষয় কাঠামো, নম্বর বণ্টন, মূল্যায়ন পদ্ধতি, পরীক্ষা-সংক্রান্ত নিয়ম কিংবা শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন হবে না।
অর্থাৎ, এতদিন যে শাখাটি ‘সাধারণ শাখা’ নামে পরিচিত ছিল, সেটিই এখন থেকে ‘মানবিক শাখা’ নামে পরিচিত হবে। নাম পরিবর্তন ছাড়া বর্তমান শিক্ষা ও মূল্যায়ন কাঠামো আগের মতোই বহাল থাকবে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৭ সাল থেকে দাখিল ও আলিম পরীক্ষায় নিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে অ্যাকাডেমিক, দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক সব ধরনের কার্যক্রমে ‘সাধারণ শাখা’র পরিবর্তে ‘মানবিক শাখা’ নাম ব্যবহার করতে হবে।
এ বিষয়ে দেশের সব মাদ্রাসা, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোকে প্রয়োজনীয় কার্যক্রমে নতুন নাম ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে ইতোমধ্যে যেসব শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন ‘সাধারণ শাখা’ নামে সম্পন্ন হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আনা হবে না। তাদের রেজিস্ট্রেশন অনুযায়ী ‘সাধারণ শাখা’ নামই বহাল থাকবে।
ফলে নতুন নাম ‘মানবিক শাখা’ মূলত ২০২৭ সাল থেকে দাখিল ও আলিম পরীক্ষায় নিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর হবে। অন্যদিকে, পূর্বে ‘সাধারণ শাখা’ নামে নিবন্ধিত শিক্ষার্থীরা তাদের বিদ্যমান রেজিস্ট্রেশন অনুযায়ীই কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন।
মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সাধারণ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার শাখাগত পরিচিতির সামঞ্জস্য আনতে এই পরিবর্তন করা হলেও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, বিষয়বস্তু, পরীক্ষা বা মূল্যায়ন পদ্ধতিতে এর কোনো তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়বে না।



