জমি লিখে না দেওয়ায় মারধর, ছেলের বিরুদ্ধে থানায় মায়ের অভিযোগ

পাবনার সাঁথিয়ায় জমি ও বসতবাড়ি ছেলের নামে লিখে না দেওয়ায় ৬২ বছর বয়সী বৃদ্ধা মা মোছা. সুফিয়া খাতুনকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার ছেলে ও ছেলের স্ত্রীর বিরুদ্ধে। পরে বসতঘরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ায় নিজের ঘরেও প্রবেশ করতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার পৌরসভাধীন দৌলতপুর গ্রামে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) ছেলে ও ছেলের বউয়ের বিরুদ্ধে সাঁথিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী সুফিয়া খাতুন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দৌলতপুর গ্রামের মৃত রতন আলী মিয়ার স্ত্রী সুফিয়া খাতুনের ছেলে মো. মোক্তার হোসেন (৫২) কৌশলে তার বাবার প্রায় ২৭ বিঘা জমি আগেই নিজের নামে লিখে নেন। এরপর মায়ের নামে থাকা বসতবাড়িটিও নিজের নামে লিখে দেওয়ার জন্য তাকে চাপ দিতে থাকেন মোক্তার হোসেন ও তার স্ত্রী মোছা. সাফিনা খাতুন।
অভিযোগে বলা হয়, বসতবাড়ি ও জমি ছেলের নামে লিখে দিতে রাজি না হওয়ায় সুফিয়া খাতুনের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু হয়। প্রায় এক মাস আগে বসতবাড়ি লিখে দেওয়ার বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ছেলে ও ছেলের স্ত্রী মিলে তাকে মারধর করেন। পরে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে বসতঘরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
এরপর থেকে নিজের ঘরে প্রবেশ করতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন সুফিয়া খাতুন। বর্তমানে তিনি বাড়ির বাইরে অবস্থান করছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে মায়ের আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছেলে মো. মোক্তার হোসেন। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে মায়ের দেওয়া অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তার দাবি, তার মা ও বোন তার স্ত্রীকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলেন। এ কারণে তিনি দৌলতপুর গ্রামেই ভাড়া বাসায় থাকতেন।
এ বিষয়ে সাঁথিয়া থানার ওসি আনিসুর রহমান বলেন, সোমবার ওই বৃদ্ধা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



