বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬
বিবিধ

মার্কিন সামরিক বাহিনীতে কমেছে যৌন নিপীড়ন, তবুও শিকার ২০ হাজারের বেশি

a1922d115e780fd4f1751c59b403caaa

২০২৫ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর আনুমানিক ২০ হাজার ৪৯২ জন সদস্য অনিচ্ছাকৃত যৌন সংস্পর্শ বা যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। শুক্রবার (২১ আগস্ট) প্রকাশিত মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে আগের বছরের তুলনায় যৌন নিপীড়নের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে যৌন নিপীড়নের শিকার সামরিক সদস্যের সংখ্যা প্রায় ৮ হাজার ৫০০ কমেছে। সক্রিয় সামরিক বাহিনীতে নারী ও পুরুষ—উভয় সদস্যের মধ্যেই যৌন নিপীড়নের আনুমানিক হার কমেছে।

সক্রিয় নারী সদস্যদের মধ্যে ২০২৩ সালে যৌন নিপীড়নের আনুমানিক হার ছিল ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা কমে ৪ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে পুরুষ সদস্যদের মধ্যে এ হার ১ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমে ১ শতাংশ হয়েছে। অর্থাৎ নারী সদস্যদের ক্ষেত্রে হ্রাসের হার তুলনামূলকভাবে বেশি হলেও পুরুষদের মধ্যেও যৌন নিপীড়নের প্রবণতা কমেছে।

মার্কিন কংগ্রেসের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রকাশ করা ২০২৫ অর্থবছরের সামরিক বাহিনীতে যৌন নিপীড়নবিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা জরিপের ফলাফলও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই জরিপের মাধ্যমে সামরিক বাহিনীতে অনিচ্ছাকৃত যৌন সংস্পর্শ, যৌন হয়রানি এবং লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যের মাত্রা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

শুধু যৌন নিপীড়ন নয়, সামরিক বাহিনীতে যৌন হয়রানির হারও কমেছে। ২০২৩ সালে সক্রিয় নারী সদস্যদের মধ্যে যৌন হয়রানির হার ছিল ২৪ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা কমে ১৭ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। পুরুষ সদস্যদের মধ্যে একই সময়ে যৌন হয়রানির হার ৫ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ হয়েছে।

তবে যৌন নিপীড়নের ঘটনা কর্তৃপক্ষের কাছে জানানোর ক্ষেত্রে উল্টো বৃদ্ধি দেখা গেছে। ২০২৩ সালে আনুমানিক ২৫ শতাংশ ঘটনা সরকারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জানানো হয়েছিল। ২০২৫ সালে এ হার বেড়ে ৩৩ শতাংশে পৌঁছেছে। অর্থাৎ আগের তুলনায় ভুক্তভোগীরা ঘটনা কর্তৃপক্ষের কাছে জানানোর ক্ষেত্রে কিছুটা বেশি আগ্রহ দেখিয়েছেন।

Advertisements

মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যৌন নিপীড়নের ঘটনা বেশি সংখ্যায় রিপোর্ট হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অভিযোগ জানানো হলে ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সদস্যরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা ও অন্যান্য পুনর্বাসনমূলক সেবা পাওয়ার সুযোগ পান। একই সঙ্গে অভিযোগের তদন্ত করা এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার পথও সহজ হয়।

মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনবল ও প্রস্তুতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অ্যান্থনি জে. টাটা বলেন, মর্যাদা, সম্মান ও শৃঙ্খলা সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবোধ এবং প্রস্তুতির ভিত্তি। তার মতে, যৌন নিপীড়ন ও যৌন হয়রানির মতো ঘটনা এসব মূল্যবোধকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। পাশাপাশি এগুলো সামরিক সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা কমিয়ে দেয় এবং বাহিনীর সামগ্রিক কার্যক্রম ও প্রস্তুতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ২০ হাজার ৪৯২ জনের সংখ্যা সামরিক কর্তৃপক্ষের কাছে জমা পড়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগের সংখ্যা নয়। এটি জরিপের মাধ্যমে পাওয়া একটি আনুমানিক হিসাব। ফলে এর মধ্যে এমন অনেক ঘটনাও রয়েছে, যেগুলো সামরিক কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

সর্বশেষ প্রতিবেদনে মার্কিন সামরিক বাহিনীতে যৌন নিপীড়ন ও যৌন হয়রানির হার কমার ইতিবাচক প্রবণতা উঠে এলেও বিপুলসংখ্যক সদস্য এখনো এ ধরনের ঘটনার শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে ঘটনাগুলো যাতে গোপন না থাকে এবং ভুক্তভোগীরা যেন প্রয়োজনীয় সহায়তা পান, তা নিশ্চিত করা এখনো মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। একই সঙ্গে অভিযোগের যথাযথ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে বাহিনীতে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

Advertisements