বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬
জীবনযাপন

খাবারের সময়সীমা ৮-৯ ঘণ্টায় সীমাবদ্ধ রাখলে বার্ধক্যে নারীদের স্মৃতিশক্তি বাড়ে

খাবারের সময়সীমা ৮-৯ ঘণ্টায় সীমাবদ্ধ রাখলে বার্ধক্যে নারীদের স্মৃতিশক্তি বাড়ে

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খাবারের তালিকা এবং পরিমাণের পাশাপাশি ‘কোন সময়ে খাওয়া হচ্ছে’—তাও মানব মস্তিষ্কের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সম্প্রতি ‘আমেরিকান সোসাইটি ফর নিউট্রিশন’-এর বার্ষিক সম্মেলন ‘নিউট্রিশন ২০২৬’-এ উপস্থাপিত এক প্রাথমিক গবেষণায় দেখা গেছে, দৈনিক খাবারের সময়সীমাকে ৮ থেকে ৯ ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে (টাইম-রেস্ট্রিক্টেড ইটিং) প্রবীণ নারীদের স্মৃতিশক্তি এবং চিন্তাশক্তির কিছুটা উন্নতি ঘটতে পারে।

ছয় মাসব্যাপী পরিচালিত এই পরীক্ষামূলক গবেষণায় ৫০ থেকে ৭৯ বছর বয়সি ৪৭ জন স্থূলতায় আক্রান্ত ও মেনোপজ পরবর্তী নারী অংশ নেন। অংশগ্রহণকারী সব নারীকে দৈনিক প্রায় ৫০০ ক্যালরি করে খাবার কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

গবেষকরা অংশগ্রহণকারীদের দুটি দলে ভাগ করেন—

প্রথম দল: তারা প্রতিদিন গড়ে ৮.২ ঘণ্টা সময়সীমার মধ্যে (সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে) খাওয়া সম্পন্ন করেন।

Advertisements

দ্বিতীয় দল: তারা দিনের ১২.৩ ঘণ্টা সময়জুড়ে স্বাভাবিকভাবে আহার গ্রহণ করেন।

খাবারের সময় কেন মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে?

খাবারের সময়সূচি, বিপাকক্রিয়া এবং মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের মধ্যে নিবিড় সম্পর্কের বিষয়টি এই গবেষণার মাধ্যমে আরও জোরদার হলো বলে গবেষকরা মনে করছেন।

ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. লরি রাইট জানান, মানুষ কতটা এবং কী খাচ্ছে তার পাশাপাশি ‘কখন খাচ্ছে’ তা খতিয়ে দেখাটাই এই গবেষণার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনের শেষ খাবার এবং পরবর্তী দিনের প্রথম খাবারের মধ্যে দীর্ঘ বিরতি দিলে তা ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতে, শরীরের প্রদাহ কমাতে এবং কোষ মেরামতের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করে। এটি দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পারে।ছয় মাসের এই গবেষণা শেষে উভয় দলের নারীই গড়ে প্রায় ৬.৮ কেজি করে ওজন কমান। তবে যারা সংক্ষিপ্ত সময়সীমার মধ্যে খাবার গ্রহণ করেছিলেন (প্রথম দল), তারা স্থানসংক্রান্ত পরিকল্পনা ও সমস্যা সমাধানের মতো বেশ কয়েকটি মেধাভিত্তিক পরীক্ষায় তুলনামূলক অনেক ভালো পারফর্ম করেন।

এ ছাড়া স্মৃতিশক্তি সংক্রান্ত পরীক্ষায় তারা ভুলও অনেক কম করেছেন।

তবে প্রতিক্রিয়ার গতি বা একসঙ্গে একাধিক কাজ করার ক্ষমতার ক্ষেত্রে উভয় দলের মধ্যে কোনো লক্ষণীয় পার্থক্য পাওয়া যায়নি।

গবেষণার প্রধান দলনেতা রুটগার্স ইউনিভার্সিটির ড. সু শ্যাপসেস জানান, যারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খাবার গ্রহণ করেছেন, দৈনন্দিন জীবনে তাদের স্মৃতিশক্তি সংক্রান্ত ভুল করার প্রবণতা অনেক কম দেখা গেছে।

পুষ্টিবিদ রুবেন ডি চিনো জানান, খাবার ছাড়া দীর্ঘ সময় কাটালে পরিপাকতন্ত্র এবং অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ‘বিশ্রাম’ নেওয়ার সুযোগ পায়, যা শারীরিক মানসিক চাপ ও প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

গবেষকদের সতর্কতা

নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করলেই যে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য পুরোপুরি ভালো থাকবে—বিষয়টি এমনও নয় বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

ড. রাইট বলেন, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ভূমধ্যসাগরীয় খাদ্যাভ্যাস (মেডিটেরিয়ান ডায়েট) অনুসরণ করার পক্ষে আরও অনেক শক্তিশালী প্রমাণ রয়েছে।

পাশাপাশি সময়ভিত্তিক খাদ্যাভ্যাস সবার জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে। শিশু-কিশোর, গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী নারী, খাওয়ার ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং ইনসুলিন গ্রহণকারী ডায়াবেটিস রোগীদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এ ধরনের খাদ্যাভ্যাস গ্রহণ করা উচিত নয়।

গবেষকরা স্পষ্ট করেছেন যে, এগুলো প্রাথমিক ফলাফল। খাবার গ্রহণের সময়সীমা সীমাবদ্ধ রাখাই সরাসরি মেধাভিত্তিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়, নাকি অন্য কোনো কারণ এর পেছনে রয়েছে—তা নিশ্চিত করতে আরও বড় পরিসরে বিস্তারিত গবেষণার প্রয়োজন।

Advertisements
নারীবার্ধক্যস্মৃতিশক্তি