বৃদ্ধা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীকে তুলে নিয়ে দুইদফা ধ র্ষ ণের অভিযোগ

ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল এলাকায় আশ্রয় নেওয়া ষাটোর্ধ্ব এক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী নারীকে তুলে নিয়ে দুই দফায় ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।
হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৫ বছর আগে ওই নারীর স্বামী মারা যান। তার তিন ছেলে ও তিন মেয়ে থাকলেও তারা দরিদ্র হওয়ায় মায়ের ভরণপোষণের ব্যয় বহন করতে পারছিলেন না। ফলে গত প্রায় এক বছর ধরে তিন বেলা খাবারের আশায় তিনি ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের বারান্দা কিংবা খালি শয্যায় অবস্থান করতেন।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডের একটি খালি শয্যায় ঘুমিয়ে ছিলেন ওই নারী। রাত ৩টার দিকে দুজন ব্যক্তি তাকে বাইরে খাবার খাওয়ানোর কথা বলে মোটরসাইকেলে তুলে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, অজ্ঞাত একটি স্থানে নিয়ে গিয়ে প্রথমবার তাকে ধর্ষণ করা হয়। পরে ভোরের দিকে হাসপাতালের সামনের একটি অ্যাম্বুলেন্স গ্যারেজে নিয়ে দ্বিতীয়বার ধর্ষণ করা হয়।
এরপর ওই নারী কান্নাকাটি শুরু করলে হাসপাতালের কর্মীরা বিষয়টি টের পেয়ে তাকে উদ্ধার করেন। পরে চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পুলিশকে ঘটনাটি জানানো হয়।
ঝালকাঠি সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মেহেদী হাসান জানান, ভুক্তভোগী নারীর পাশের শয্যায় থাকা এক ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতাল এলাকা থেকে বেলাল সিকদার (৪৫) নামে একজনকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বেলা পৌনে ২টার দিকে বরিশাল থেকে নাসির নামে এক মোটরসাইকেলচালককে আটক করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারীর মেজ ছেলে জানান, তারা দিনমজুরের কাজ করে কোনোভাবে সংসার চালান। নিজেদের পরিবারের খরচ মেটাতেই তাদের কষ্ট হয়, ফলে মায়ের দেখাশোনার ব্যয় বহন করা সম্ভব হচ্ছিল না। এ কারণে বিনা খরচে খাবারের আশায় মা হাসপাতালে থাকতেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মাসুম ইফতেখার বলেন, ওই নারী হাসপাতালে ভর্তি রোগী ছিলেন না। তবে ঘটনার পরপরই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পুলিশকে জানানো হয়। অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজও পুলিশকে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক দুজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।



