বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬
বিবিধ

এল নিনোর প্রভাবে ইন্দোনেশিয়ায় দাবানল, ধোঁয়ায় বন্ধ স্কুল

IMG_3359

এল নিনোর প্রভাবে দীর্ঘ ও তীব্র শুষ্ক মৌসুমের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ায় দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় তৈরি হয়েছে ধোঁয়ার ঘন আস্তরণ। এর কারণে বোর্নিও দ্বীপের পশ্চিম কালিমানতান প্রদেশের পন্টিয়ানাকে কয়েক ডজন স্কুল টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বন্ধ রাখা হয়েছে। বায়ুর মান স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বাড়ি থেকে পাঠ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পন্টিয়ানাক শহরের ওপর ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় মেয়র এদি রুস্তি কামতোনো স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত জানান। সরকারি স্কুলগুলোতে শহরটির কয়েক হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। তবে কতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়েছে, তা জানানো হয়নি।

মেয়র বলেন, বিশেষ করে রাত ও ভোরের দিকে দাবানলের ধোঁয়ার প্রভাব বেশি অনুভূত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ধোঁয়ার আস্তরণ শহরটিকে ঢেকে ফেলেছে। বায়ুর পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের অনলাইনে বা বাড়ি থেকে পাঠ নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এদিকে জাভা দ্বীপের ব্রোমো তেঙ্গের সেমেরু জাতীয় উদ্যানে টানা নবম দিনের মতো আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন দমকলকর্মীরা। গত সোমবার শুরু হওয়া দাবানলে এখন পর্যন্ত প্রায় ৯০০ হেক্টর বনভূমি পুড়ে গেছে। আগুনের কারণে শনিবার থেকে পর্যটকদের জন্য জাতীয় উদ্যানটি বন্ধ রাখা হয়েছে।

Advertisements

পূর্ব জাভার ওই উদ্যানে পুড়ে যাওয়া এলাকার পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ২০০ একর, যা ১ হাজার ২০০টির বেশি ফুটবল মাঠের সমান। এটি পুরো জাতীয় উদ্যানের প্রায় ২ শতাংশ এলাকা।

স্থানীয় দুর্যোগ কর্মকর্তা সাত্রিয়ো নুরসেনো জানিয়েছেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আগুন নেভানোর পাশাপাশি পানি ছিটিয়ে আগুনের পুনরায় ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোর প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।

দাবানল নিয়ন্ত্রণে প্রায় ২০০ দমকলকর্মী, বনরক্ষী, পুলিশ ও সেনাসদস্য কাজ করছেন। তাদের সহায়তায় রয়েছে তিনটি পানি নিক্ষেপকারী হেলিকপ্টার ও ফায়ার ট্রাক।

দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ছয়টি প্রদেশে দাবানল মোকাবিলায় ৪৮ হাজারের বেশি কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। প্রয়োজনে কৃত্রিম বৃষ্টির ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য ৪৩টি হেলিকপ্টার ও সর্বোচ্চ ১৫টি নির্দিষ্ট ডানার বিমান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিমান থেকে সিলভার আয়োডাইড ও লবণের মতো কণা ছড়িয়ে মেঘ থেকে বৃষ্টিপাত ঘটানোর চেষ্টা করা হয়। তবে এ পদ্ধতির জন্য আকাশে পর্যাপ্ত মেঘ থাকা প্রয়োজন।

ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া সংস্থা বিএমকেজি জানিয়েছে, এল নিনোর প্রভাবে এ বছর দেশটিতে অস্বাভাবিকভাবে কঠিন শুষ্ক মৌসুম দেখা দিতে পারে। এতে খরা ও দাবানলের ঝুঁকি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সরকারি হিসাবে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়াজুড়ে ১ লাখ ৭ হাজার হেক্টরের বেশি জমি দাবানলে পুড়ে গেছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে উঠেছে। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশের খাদ্য মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে।

এদিকে তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়েছে। বিএমকেজির তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে ইন্দোনেশিয়ার গড় তাপমাত্রা ছিল ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যেখানে স্বাভাবিক গড় ২৬ দশমিক ২ ডিগ্রি। ১৯৯১ সালের পর জুলাই মাসে এটিই সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির ঘটনা।

এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা, যার কারণে বিশ্বজুড়ে বায়ুপ্রবাহ, বায়ুচাপ ও বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন আসে। ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক অঞ্চলে এর প্রভাবে সাধারণত শুষ্ক আবহাওয়া দেখা দেয়।

সাম্প্রতিক এল নিনোর প্রভাবে ২০২৩ ও ২০২৪ সাল বৈশ্বিকভাবে রেকর্ডের সবচেয়ে উষ্ণ দুই বছর হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। আর চলতি বছর ইন্দোনেশিয়ায় দাবানলে পুড়ে যাওয়া জমির পরিমাণ ২০২৩ সালের তুলনায় ইতোমধ্যে দ্বিগুণ হয়েছে।

Advertisements
ইন্দোনেশিয়াএল নিনোদাবানলস্কুল