বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনসোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬
বিবিধ

শত বছর পর সৌদির মরুভূমিতে অনাগারের নতুন শাবক

Onager-mare-foal

প্রায় এক শতাব্দী আগে সৌদি আরবের মরুভূমি থেকে হারিয়ে গিয়েছিল অনাগার—বন্য গাধার একটি প্রজাতি। শিকার ও আবাসস্থল ধ্বংসের কারণে দেশটি থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া প্রাণীটি আবারও ফিরেছে সৌদির মরুভূমিতে। শুধু ফিরে আসাই নয়, দেশটির একটি সংরক্ষিত এলাকায় জন্ম নিয়েছে অনাগারের নতুন একটি শাবক।

সৌদি আরবের প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান রয়্যাল রিজার্ভে জন্ম নেওয়া পুরুষ শাবকটিকে দেশটির বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

২০২৫ সালের জুনে শাবকটির জন্ম হলেও অনাগার শাবকদের জীবনের প্রথম বছরটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এতদিন বিষয়টি প্রকাশ করা হয়নি। সম্প্রতি শাবকটি নিরাপদে ১২ মাস পার করার পর তার জন্মের খবর প্রকাশ্যে আসে।

রিজার্ভের প্রধান নির্বাহী অ্যান্ড্রু জালুমিস বলেন, হাজার বছর আগে আরবের কবিতায় যে প্রাণীর প্রশংসা করা হতো, প্রায় ১০০ বছর পর সেই প্রাণী আবার সৌদির মরুভূমিতে ফিরে এসেছে। তাঁর মতে, এটি শুধু একটি প্রাণীর ফিরে আসার ঘটনা নয়; এর সঙ্গে আরবের প্রকৃতি ও ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের বিষয়টিও জড়িত।

Advertisements

জর্ডান থেকে সৌদিতে অনাগার

সৌদি আরবে অনাগার ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ শুরু হয় ২০২৪ সালে। সে সময় জর্ডানের শওমারি ওয়াইল্ডলাইফ রিজার্ভ থেকে পাঁচটি স্ত্রী ও দুটি পুরুষসহ মোট সাতটি অনাগার সৌদিতে আনা হয়। প্রায় ৯৩৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে প্রাণীগুলো সৌদির সংরক্ষিত এলাকায় পৌঁছায়।

সৌদিতে আনার পর একটি স্ত্রী অনাগার শাবকের জন্ম দেয়। পরে আরও দুটি গর্ভধারণ সফল হয়নি। এর মধ্যে একটি ঘটনায় একটি স্ত্রী অনাগারের মৃত্যু হয়।

বর্তমানে রিজার্ভে প্রাপ্তবয়স্কসহ পাঁচটি স্ত্রী ও তিনটি পুরুষ অনাগার রয়েছে। আরও দুটি স্ত্রী অনাগার গর্ভবতী। আগামী শীত মৌসুমে তাদের শাবক জন্ম নেওয়ার কথা রয়েছে।

জন্মের পরপরই দাঁড়াতে হয় শাবককে

অনাগারের শাবকদের জীবন শুরু থেকেই কঠিন। প্রায় ১১ মাস মায়ের গর্ভে থাকার পর জন্মের মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যেই শাবককে দাঁড়াতে হয়। জন্মের পরপরই মায়ের দুধ পান করাও তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মায়ের প্রথম দুধ বা শালদুধ শাবকের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

পারস্য অনাগার বর্তমানে হুমকির মুখে থাকা একটি প্রাণী। বন্য পরিবেশে এদের সংখ্যা ৬০০টিরও কম বলে ধারণা করা হয়। ২০২৫ সালে আইইউসিএন প্রাণীটির এই উপপ্রজাতিকে ‘চরম বিপন্ন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।

অনাগারের সঙ্গে ফিরছে মরুভূমির বাস্তুতন্ত্র

সৌদি আরবের ‘রিওয়াইল্ড অ্যারাবিয়া’ কর্মসূচির লক্ষ্য শুধু অনাগারকে ফিরিয়ে আনা নয়। আরব অঞ্চলের ঐতিহাসিক ২৩টি স্থানীয় প্রজাতিকে তাদের পুরোনো আবাসস্থলে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ১৪টি প্রজাতি পুনরুদ্ধারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

সংরক্ষণবিদদের মতে, অনাগারকে রক্ষা করতে শুধু প্রাণীগুলোকে সংরক্ষণ করলেই হবে না। তাদের জন্য প্রয়োজন বিস্তৃত মরুভূমি, পর্যাপ্ত স্থানীয় উদ্ভিদ এবং নিরাপদে চলাচলের সুযোগ। তাই অনাগারের সফল বংশবিস্তারকে পুরো মরুভূমির বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধারের একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

একসময় আরবের কবিতায় স্বাধীনতা ও বন্য জীবনের প্রতীক ছিল অনাগার। প্রায় ১০০ বছর পর সেই প্রাণীই আবার সৌদির মরুভূমিতে নিজের জায়গা করে নিচ্ছে।

সৌদি আরবের লক্ষ্য অবশ্য আরও বড়। আগামী কয়েক দশকে এমন একটি প্রাকৃতিক পরিবেশ তৈরি করতে চায় দেশটি, যেখানে অনাগারের পাশাপাশি আরবীয় চিতাবাঘ, চিতা ও সিংহের মতো শিকারি প্রাণীরাও তাদের ঐতিহাসিক আবাসস্থলে ফিরে আসতে পারে।

Advertisements
অনাগারেমরুভূমিশাবকসৌদি