অপুষ্টি থেকে হতে পারে ‘টাইপ-৫ ডায়াবেটিস’, ঝুঁকিতে তরুণ ও রোগা মানুষ

ডায়াবেটিস বলতে সাধারণত টাইপ-১ ও টাইপ-২ রোগকেই বোঝানো হয়। তবে এর বাইরে গর্ভকালীন ডায়াবেটিসসহ আরও কয়েক ধরনের রোগ রয়েছে। এবার চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ‘টাইপ-৫ ডায়াবেটিস’, যা দীর্ঘদিনের অপুষ্টির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি স্বতন্ত্র ধরনের ডায়াবেটিস।
আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞদের মধ্যে এ রোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও অপুষ্টি-সংশ্লিষ্ট ডায়াবেটিসের কথা চিকিৎসাবিজ্ঞানে বহু বছর ধরেই ছিল, সাম্প্রতিক গবেষণায় এর বৈশিষ্ট্য টাইপ-১ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের তুলনায় আলাদা বলে উঠে এসেছে। ফলে রোগটি আলাদাভাবে শনাক্ত করা সঠিক চিকিৎসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অপুষ্টির সঙ্গে সম্পর্কিত রোগ
শৈশব বা কৈশোরে দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ক্যালরি না পেলে অগ্ন্যাশয়ের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও কার্যকারিতা ব্যাহত হতে পারে। এতে শরীরে ইনসুলিন তৈরির ক্ষমতা কমে যায় এবং পরবর্তী সময়ে ডায়াবেটিস দেখা দিতে পারে।
টাইপ-৫ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সাধারণত রোগা হন এবং শরীরে চর্বির পরিমাণও কম থাকে। তবে এটি টাইপ-১ ডায়াবেটিসের মতো অটোইমিউন রোগ নয়। আবার টাইপ-২ ডায়াবেটিসের মতো স্থূলতা বা ইনসুলিন প্রতিরোধও এ রোগের প্রধান কারণ নয়।
কাদের ঝুঁকি বেশি
নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে টাইপ-৫ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে। যেসব দেশে শৈশবের অপুষ্টি এখনো বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা, সেসব দেশে এ ধরনের রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হতে পারে। বাংলাদেশ, ভারত, নেপালসহ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে এ রোগের উপস্থিতি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে রোগা ও তরুণ বয়সী ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে অতীতের অপুষ্টির ইতিহাস থাকলে টাইপ-৫ ডায়াবেটিসের বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন হতে পারে। ভুল ধরনের ডায়াবেটিস হিসেবে শনাক্ত হলে চিকিৎসার ফলও প্রত্যাশিত নাও হতে পারে।
লক্ষণ প্রায় একই
টাইপ-৫ ডায়াবেটিসের লক্ষণ অন্যান্য ধরনের ডায়াবেটিসের মতোই। অতিরিক্ত পিপাসা, ঘন ঘন প্রস্রাব, অস্বাভাবিক ওজন কমে যাওয়া, দুর্বলতা ও ঝাপসা দেখার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
তবে রোগীর শারীরিক গঠন, ছোটবেলার অপুষ্টির ইতিহাস এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষার ফল বিবেচনা করে চিকিৎসক এ ধরনের ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা নির্ণয় করতে পারেন।
চিকিৎসায় পুষ্টি গুরুত্বপূর্ণ
টাইপ-৫ ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় শুধু রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করাই যথেষ্ট নয়। রোগীর পুষ্টির ঘাটতি পূরণ এবং সুষম খাদ্য নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। কারও ক্ষেত্রে মুখে খাওয়ার ওষুধে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতে পারে, আবার কারও ইনসুলিনের প্রয়োজন হতে পারে।
তাই রোগীর শারীরিক অবস্থা, পুষ্টির ঘাটতি ও রক্তে শর্করার মাত্রা বিবেচনা করে ব্যক্তিভেদে চিকিৎসা পরিকল্পনা করাই এ রোগ নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।



