জুলাই অভ্যুত্থান: এই দিনেই বন্ধ হয়েছিল ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপ

২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের উত্তাল সময়ের এই দিনে দেশের ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগে মেটা প্ল্যাটফর্মের সব ধরনের সেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল তৎকালীন সরকার। এর ফলে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জারসহ মেটার মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো ব্যবহার করতে পারেননি দেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা।

৪ আগস্ট দুপুর প্রায় দেড়টার দিকে সরকারের পক্ষ থেকে এই নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট ইন্টারনেট সেবাদাতাদের কাছে পাঠানো হয়। নির্দেশনা কার্যকর হওয়ার পরপরই ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের জন্য মেটার প্ল্যাটফর্মগুলো অকার্যকর হয়ে পড়ে।
সেদিন ছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘোষিত অসহযোগ কর্মসূচির প্রথম দিন। রাজধানীর শাহবাগসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকার মোবাইল ইন্টারনেট সেবাতেও বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত নেয়।

সরকারি নির্দেশনার পর মোবাইল অপারেটরদের একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার মাধ্যমে জানানো হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দেশের ফোর-জি (4G) মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখতে হবে। এর ফলে উচ্চগতির মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
এর আগে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংঘর্ষ ও সহিংসতার প্রেক্ষাপটে ১৭ জুলাই রাত থেকে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করা হয়েছিল। পরদিন ১৮ জুলাই রাত থেকে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এতে দেশজুড়ে ইন্টারনেটনির্ভর যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য, ব্যাংকিং, তথ্যপ্রযুক্তি খাত এবং দৈনন্দিন নানা কার্যক্রমে ব্যাপক প্রভাব পড়ে।

দীর্ঘ পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর ২৩ জুলাই সীমিত পরিসরে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ পুনরায় চালু করা হয়। তবে তখনও বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও অনলাইন সেবায় বিধিনিষেধ বহাল ছিল। এরপর আরও কয়েক দিন পর, ২৮ জুলাই দেশে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা পুনরায় চালু করা হয়। এর মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে দেশের ইন্টারনেটভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা।

২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহে ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিধিনিষেধ আরোপ ছিল সবচেয়ে আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর একটি। বিশেষ করে ৪ আগস্ট মেটার প্ল্যাটফর্মগুলো বন্ধের সিদ্ধান্ত সেই সময়ের যোগাযোগব্যবস্থা ও তথ্যপ্রবাহে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছিল।



