বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬
বিবিধ

বাংলাদেশে রেংমিটচা ভাষার শেষ আশ্রয় মাত্র দুই মানুষ

IMG_20260723_180023

দুজনের কণ্ঠে টিকে আছে বাংলাদেশের বিলুপ্তপ্রায় রেংমিটচা ভাষা বান্দরবানের আলীকদমে বসবাসকারী ম্রো জনগোষ্ঠীর একটি স্বতন্ত্র ভাষা রেংমিটচা এখন বিলুপ্তির একেবারে দ্বারপ্রান্তে। সাম্প্রতিক এক মৃত্যুর পর ভাষাটিতে সাবলীলভাবে কথা বলতে পারেন মাত্র দুই ব্যক্তি। ভাষাবিজ্ঞানীদের মতে, পারিবারিক চর্চার অভাব এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে ভাষাটি না ছড়িয়ে পড়ায় এর অস্তিত্ব এখন মারাত্মক হুমকির মুখে।

কয়েক বছর আগেও রেংমিটচা ভাষায় সাবলীলভাবে কথা বলতে পারতেন ছয়জন। পরে সেই সংখ্যা কমে তিনজনে নেমে আসে। তারা ছিলেন একই পরিবারের তিন ভাই। চলতি বছরের ৫ মে ৬৬ বছর বয়সে মাংওয়াই ম্রোর মৃত্যুর পর এখন তাঁর দুই ভাই—মাংপুং ম্রো (৭৪) ও রেংপুং ম্রো (৭০)—এই ভাষার শেষ সাবলীল বক্তা হিসেবে রয়েছেন।

যদিও ভাষাটি সম্পূর্ণভাবে জানেন না, তবু ভাঙা-ভাঙা বলতে বা কিছুটা বুঝতে পারেন এমন আরও সাতজন জীবিত আছেন। সব মিলিয়ে বর্তমানে রেংমিটচা ভাষা সম্পর্কে ধারণা রয়েছে মোট নয়জনের।

মাংওয়াই ম্রোর ভাতিজা সিংরা ম্রো জানান, তিনি ভাষাটি কিছুটা বুঝতে ও বলতে পারলেও সাবলীল নন। বর্তমানে তাঁর বাবা ও চাচাই একমাত্র ব্যক্তি, যারা রেংমিটচায় অনর্গল কথা বলতে পারেন। তবে তারা একই এলাকায় থাকলেও পৃথক পাড়ায় বসবাস করেন।

Advertisements

রেংমিটচা ভাষা নিয়ে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনের ট্রিনিটি কলেজে পিএইচডি গবেষণা করছেন গবেষক আফসানা ফেরদৌস। তাঁর মাঠপর্যায়ের গবেষণায় উঠে এসেছে, ভাষাটি জানা নয়জনের মধ্যে দুইজন সাবলীল বক্তা, তিনজন অর্ধভাষী এবং চারজন ভাষাটি মোটামুটি বুঝতে পারেন। তবে কোনো পরিবারেই এখন আর রেংমিটচা দৈনন্দিন যোগাযোগের ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয় না। গবেষক আফসানা ফেরদৌস বলেন, ভাষা টিকে থাকার সবচেয়ে বড় ভিত্তি হলো পারিবারিক ব্যবহার। কিন্তু রেংমিটচা জানা ব্যক্তিরা পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে ম্রো ভাষায় কথা বলেন, কারণ পরিবারের বাকিরা রেংমিটচা জানেন না। ফলে নতুন প্রজন্মের কাছে ভাষাটি পৌঁছাচ্ছে না এবং দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে।

ভাষাবিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, জরুরি উদ্যোগ নিয়ে ভাষাটির শব্দভান্ডার, ব্যাকরণ ও মৌখিক ইতিহাস সংরক্ষণ করা না গেলে বাংলাদেশের অন্যতম বিরল এই ভাষা খুব শিগগিরই ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নেবে।

Advertisements
বাংলাদেশরেংমিটচা