বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬
বিবিধ

ফ্লেমিংগো রক্ষার আন্দোলনে ডুয়া লিপা, বিরোধিতা ট্রাম্পের রিসোর্ট পরিকল্পনার

images (32)

আলবেনিয়ার একটি সংরক্ষিত দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবারের ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের বিলাসবহুল রিসোর্ট নির্মাণ পরিকল্পনা ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার দাবিতে স্থানীয়দের চলমান আন্দোলনে এবার সমর্থন জানিয়েছেন বিশ্বখ্যাত পপ তারকা ডুয়া লিপা।

লন্ডনে জন্ম নেওয়া ডুয়া লিপার পারিবারিক শেকড় কসোভো ও আলবেনিয়ার সঙ্গে যুক্ত। সম্প্রতি ‘সার্ভিস ৯৫ বুক ক্লাব’ পডকাস্টে আলবেনীয় লেখক ও শিক্ষাবিদ লিয়া ইপির সঙ্গে আলাপকালে তিনি আলবেনিয়ার আন্দোলনকারীদের প্রশংসা করেন। তিনি এই প্রতিবাদ কর্মসূচিকে ‘অনুপ্রেরণামূলক’ বলেও উল্লেখ করেন।

ডুয়া লিপা বলেন, প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষার প্রতি মানুষের দায়িত্বশীলতা তাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। তবে জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে পরিবেশ সুরক্ষার আইন পরিবর্তনের সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার মতে, মানুষের অংশগ্রহণ ছাড়া পরিবেশগত সুরক্ষা দুর্বল করার কোনো উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয়।

ট্রাম্প পরিবারের পরিকল্পিত রিসোর্টটি নির্মাণের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে আলবেনিয়ার জনবসতিহীন সাজান দ্বীপকে। একসময় স্নায়ুযুদ্ধের সময়ে দ্বীপটি সামরিকভাবে সংরক্ষিত ও সাধারণ মানুষের প্রবেশের জন্য নিষিদ্ধ ছিল। বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ একর জায়গাজুড়ে এই বিশাল পর্যটন প্রকল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

Advertisements

প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের বড় মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্প, তার স্বামী জ্যারেড কুশনার এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের একটি জোট। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সাজান দ্বীপে বিলাসবহুল হোটেল, পর্যটন সুবিধা ও বিভিন্ন আধুনিক স্থাপনা নির্মাণ করা হবে।

তবে এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই পরিবেশবাদী ও স্থানীয় আন্দোলনকারীরা প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী এডি রামা প্রকল্পটির শক্ত সমর্থক হলেও রাজধানী তিরানায় পার্লামেন্টের সামনে নিয়মিত বিক্ষোভ চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রী রামার পদত্যাগের দাবিও জোরালো হয়েছে।

আন্দোলনকারীরা বলছেন, পরিকল্পিত রিসোর্টটি নির্মিত হলে ওই এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। প্রকল্পের নির্ধারিত এলাকা বুনো সমুদ্রসৈকত, বনাঞ্চল এবং ভিয়োসা-নার্তা লেগুনের কাছাকাছি অবস্থিত। এই অঞ্চল প্রায় ৩ হাজার ফ্লেমিংগো পাখির আবাসস্থল হওয়ায় আন্দোলনকারীরা তাদের কর্মসূচির নাম দিয়েছেন ফ্লেমিংগো বিপ্লব’।

রিসোর্ট নির্মাণের সুবিধার্থে সরকার ওই এলাকার সংরক্ষিত পরিবেশগত মর্যাদা কমিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এরপর থেকেই প্রকল্পটি আলবেনিয়ার অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত

ফ্লেমিংগো রক্ষার আন্দোলনে ডুয়া লিপা, বিরোধিতা ট্রাম্পের রিসোর্ট পরিকল্পনার

রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন দাবি করছে, এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ চুক্তির নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

তবে আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী এডি রামা এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি সমালোচনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেছেন। গত মাসে তিনি প্রকল্পটিকে ‘অসাধারণ’ আখ্যা দিয়ে যেকোনো মূল্যে এটি বাস্তবায়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অন্যদিকে, ইভাঙ্কা ট্রাম্পও প্রকল্পটি নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। মে মাসে এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে তিনি এই রিসোর্টকে ‘বিশাল’ ও ‘অসাধারণ সুন্দর’ বলে বর্ণনা করেন। তিনি জানান, কয়েক বছর আগে একটি বিলাসবহুল ইয়ট থেকে ওই উপকূলীয় অঞ্চল দেখার পরই তিনি ও জ্যারেড কুশনার সেখানে বিনিয়োগের বিষয়ে আগ্রহী হন।

এদিকে, প্রকল্পের জমি বিক্রিকে ঘিরেও নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মিয়ামিভিত্তিক ব্যবসায়ী আরতুর শেহু গত এপ্রিলে বিনিয়োগকারী গোষ্ঠীর কাছে উপকূলীয় এলাকার একটি অংশ বিক্রি করেন। ওই সময় তিরানায় প্রকল্পবিরোধী বিক্ষোভ চলছিল।

আলবেনিয়ার প্রসিকিউটররা আরতুর শেহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন। তার বিরুদ্ধে ইউরোপে মাদক পাচার, অবৈধ অর্থ লেনদেন এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্ট জমির মালিকানা নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। তবে শেহু এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

প্রকল্প এলাকার সবচেয়ে কাছের গ্রাম জভারনেকের বাসিন্দারাও দীর্ঘদিন ধরে জমির মালিকানা নিয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে আসছেন। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট জমির মালিকানা নিয়ে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আদালতে বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ডুয়া লিপার বাবা-মা আনেসা ও দুকাগজিন ১৯৯২ সালে কসোভো থেকে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় নেন। ১৯৯৫ সালে লন্ডনে জন্ম নেওয়া ডুয়া পরবর্তীতে পরিবারের সঙ্গে কসোভোতে ফিরে গেলেও মাত্র ১৫ বছর বয়সে সংগীত ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন নিয়ে আবার লন্ডনে ফিরে আসেন। বর্তমানে তিনি বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পপ তারকাদের একজন।

Advertisements
ট্রাম্পডুয়া লিপাফ্লেমিংগোরিসোর্ট