বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬
বিবিধ

বিপৎসীমার ১০০ সেন্টিমিটার ওপরে মেঘনার পানি, দুর্ভোগে মনপুরাবাসী

image_307527_1783655062

ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় মেঘনা নদীর পানি বিপৎসীমার ১০০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে উপজেলার বেড়িবাঁধের ভেতর ও বাইরের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল পাঁচ থেকে ছয় ফুট জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। আকস্মিক পানি বৃদ্ধিতে হাজারো মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম নৌপথ রামনেওয়াজ লঞ্চঘাট জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন শত শত যাত্রী।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে মেঘনা নদীর পানি বিপৎসীমার ১০০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডিভিশন-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাফউদ্দৌলা।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার ১ নম্বর মনপুরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব পাশের ৬০ কলোনি এলাকায় জোয়ারের পানি ঢুকে পড়েছে। অনেক জায়গায় বুকসমান পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে প্রায় ৬০টি পরিবারের বসতঘর প্লাবিত হয়েছে। পানির কারণে অনেক বাসিন্দা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি করছেন। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে ঘরের টিনের ছাদে আশ্রয় নিয়েছেন।

এদিকে বেড়িবাঁধ না থাকা ৫ নম্বর কলাতলী ইউনিয়নের চরকলাতলী, কাজীরচর ও ঢালচর এলাকার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এসব এলাকায় পাঁচ থেকে সাত ফুট পর্যন্ত জোয়ারের পানি উঠে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

Advertisements

অন্যদিকে, রামনেওয়াজ লঞ্চঘাট জোয়ারের পানিতে ডুবে যাওয়ায় যাত্রীদের কোমরসমান পানি পেরিয়ে লঞ্চে উঠতে ও নামতে হচ্ছে। এতে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যাহত হওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

৬০ কলোনির বাসিন্দা ইয়াছিন, কামাল ও সখিনা বেগমসহ স্থানীয় কয়েকজন জানান, প্রতিদিন দিনে ও রাতে দুই দফা জোয়ারের পানিতে তাদের ঘরবাড়ি তলিয়ে যাচ্ছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেক সময় টিনের চালের ওপর আশ্রয় নিতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের জোয়ার নিয়ে আতঙ্কে থাকতে হয় তাদের। কখন পানি বাড়বে, কখন কমবে—এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই দিন কাটছে।

রামনেওয়াজ ঘাট এলাকার বাসিন্দা নাহিদ, মোস্তফা ও মমিন তালুকদার জানান, লঞ্চঘাটসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে হাজারো মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডিভিশন-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাফউদ্দৌলা বলেন, মেঘনা নদীর পানি বিপৎসীমার ১০০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বেড়িবাঁধের ভেতর ও বাইরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। রামনেওয়াজ এলাকার পুরোনো বেড়িবাঁধ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

Advertisements
বন্যাভোলামনপুরামেঘনা