বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনসোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬
জীবনযাপন

অফিসের টক্সিক কলিগদের যেভাবে সামলাবেন

Estres-laboral-1024×683

কর্মক্ষেত্রে নানা ধরনের মানুষের সঙ্গেই মানিয়ে চলতে হয় প্রত্যেককে। সহকর্মীদের মধ্যে মতের অমিল থাকতেই পারে, কিন্তু তা থেকে যদি বিভেদের সৃষ্টি হয় কিংবা নষ্ট হয় কাজের পরিবেশ, তবেই মুশকিল। বিষাক্ত পরিবেশে নিজের কর্মদক্ষতাও প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। আর এমন পরিবেশের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে ব্যক্তিজীবনেও। সহকর্মীর খারাপ আচরণের কারণে আপনি আত্মবিশ্বাস হারাতে পারেন, দুশ্চিন্তা কিংবা বিষণ্নতায় ভুগতে পারেন, খিটখিটেও হয়ে যেতে পারেন। পরিবারের ওপর মেজাজ দেখানোর মতো ভুল আচরণও করে বসেন অনেকে। এমন পরিস্থিতি সামলাতে কী করবেন?

১. সীমা নির্ধারণ করুন

টক্সিক সহকর্মীর সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখা সবচেয়ে কার্যকর উপায়। প্রয়োজনে বিনয়ের সঙ্গে কিন্তু দৃঢ়ভাবে ‘না’ বলতে শিখুন। তাদের আপনার ব্যক্তিগত জীবনে প্রবেশ করতে দেবেন না এবং নিজের ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন। সবসময় পেশাদারিত্ব বজায় রাখুন।

২. তাদের নাটকে জড়াবেন না

Advertisements

এ ধরনের মানুষ সাধারণত অন্যের প্রতিক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে। আপনি যত বেশি তাদের প্রতি মনোযোগ দেবেন, তারা ততই প্রভাব বিস্তার করবে। তাই শান্ত থাকুন, পরচর্চা বা তর্কে জড়াবেন না। আপনার সংযমই তাদের নিয়ন্ত্রণের সুযোগ কমিয়ে দেবে।

৩. ঘটনাগুলো নথিভুক্ত রাখুন

যদি কোনো টক্সিক সহকর্মীর আচরণ আপনার কাজ বা সুনাম ক্ষুণ্ন করে, তাহলে প্রতিটি ঘটনার রেকর্ড রাখুন-ইমেল, বার্তা বা কথোপকথনের তারিখসহ। প্রয়োজনে এসব তথ্য এইচআর বা কর্তৃপক্ষের কাছে প্রমাণ হিসেবে কাজে আসবে।

৪. সহায়তা নিন

বিশ্বস্ত বন্ধু, পরামর্শদাতা বা সহানুভূতিশীল সহকর্মীর সঙ্গে কথা বলুন। মানসিক সমর্থন চাপ কমায় এবং একাকীত্ব দূর করে। ইতিবাচক মানুষদের কাছাকাছি থাকলে টক্সিক পরিবেশের প্রভাব অনেকটাই কমে যায়।

৫. প্রয়োজনে এইচআর বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করুন

যদি পরিস্থিতি সীমা ছাড়িয়ে যায় বা তাদের আচরণ নীতিবিরুদ্ধ হয়, তবে দেরি না করে কর্তৃপক্ষকে জানান। প্রমাণসহ রিপোর্ট করলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হয়। সময়মতো হস্তক্ষেপ ভবিষ্যতের বড় সমস্যাও প্রতিরোধ করতে পারে।

৬. আত্মশক্তিতে বলীয়ান হোন

অন্যের খারাপ আচরণে নিজেকে ঠিক রাখতে পারছেন না? এর অর্থ হলো, আপনি নিজের নিয়ন্ত্রণে নেই। অন্যের কথায় কেন আপনি প্রভাবিত হবেন? কেউ যদি আপনার সঙ্গে নেতিবাচক আচরণ করেন আর আপনি যদি সে বিষয় নিয়েই বিরক্ত হন, তাহলে তো ওই ব্যক্তিই জিতে গেলেন! অন্যের খারাপ আচরণে আপনি কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না, জীবনযুদ্ধে আপনার জয় নিশ্চিত করতে হলে আপনাকে এ সিদ্ধান্ত নিতেই হবে।

৭. সরাসরি আলাপ করুন

কারও সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছা না করলে কখনোই অন্য কাউকে দিয়ে পরোক্ষভাবে কাজের কথা সারতে চেষ্টা করবেন না। কথা বলুন সরাসরি। তবে বেঁধে দিন সীমা। কাজের কথার বাইরে কথা এগোতে দেবেন না। কেউ গায়ে পড়ে ঝগড়া করতে চাইলে তাঁকে স্পষ্টভাবে বলুন, আপনি এ বিষয়ে কথা বলতে চান না। কেউ উসকানিমূলক খুদে বার্তা পাঠালে কিংবা ফেসবুক স্ট্যাটাস দিলেও শান্ত রাখুন নিজেকে।

Advertisements
অফিসঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকলিগটক্সিক