বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনসোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬
জীবনযাপন

মাত্র ১ মিনিটের রাগেই কমতে পারে ৫ ঘণ্টার আয়ু!

1 (2)

রাগ মানুষের স্বাভাবিক একটি আবেগ। অন্যায়, অপমান, হতাশা বা মানসিক চাপের কারণে রাগ হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে এই আবেগ যদি ঘন ঘন প্রকাশ পায় বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তাহলে তা মানসিক অস্বস্তির পাশাপাশি শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

গবেষকদের মতে, মাত্র এক মিনিটের তীব্র রাগের প্রভাব শরীরে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এ সময় শরীর উচ্চমাত্রার মানসিক চাপের মধ্যে থাকে, যা দীর্ঘমেয়াদে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, রাগের সময় শরীরে সক্রিয় হয় ‘ফাইট অর ফ্লাইট’ প্রতিক্রিয়া। অর্থাৎ মস্তিষ্ক শরীরকে সম্ভাব্য বিপদের মুখে রয়েছে বলে ধরে নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করে। এর ফলে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিনের নিঃসরণ বেড়ে যায়। এসব হরমোন জরুরি পরিস্থিতিতে শরীরকে সাড়া দিতে সহায়তা করলেও, বারবার এদের মাত্রা বেড়ে গেলে শরীরের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। রাগের সময় হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ বেড়ে যায়, পেশিতে টান পড়ে এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপরও চাপ সৃষ্টি হয়।

দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত রাগ ও মানসিক চাপের কারণে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে, সহজেই ক্লান্তি আসে এবং হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ঘুমের সমস্যা, হজমের জটিলতা ও উদ্বেগের মতো সমস্যার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়। রাগের নেতিবাচক প্রভাব শুধু ব্যক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। পরিবার, কর্মক্ষেত্র ও সামাজিক সম্পর্কেও এর প্রভাব পড়ে। একজনের নিয়ন্ত্রণহীন রাগ আশপাশের মানুষের মধ্যে অস্বস্তি ও মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে।

Advertisements

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু সহজ অভ্যাস রাগ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর হতে পারে। রাগের মুহূর্তে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে কিছুক্ষণ বিরতি নেওয়া, গভীর শ্বাস নেওয়া, পানি পান করা বা কিছু সময়ের জন্য স্থান পরিবর্তন করলে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হতে পারে।

এ ছাড়া নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, মেডিটেশন, প্রার্থনা এবং সচেতন শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, রাগ কোনো নেতিবাচক অনুভূতি নয়; এটি মানুষের স্বাভাবিক আবেগেরই অংশ। তবে এই আবেগ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তা শরীর ও মনের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। তাই সুস্থ জীবনযাপন ও সুন্দর সম্পর্ক বজায় রাখতে আবেগ নিয়ন্ত্রণের অভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

Advertisements
আয়ুপ্রতিরোধমানসিক চাপরাগ