বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনসোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬
স্পটলাইট

চট্টগ্রামের বন্যায় ১.১২ লাখের বেশি গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির মৃত্যু, ক্ষতি ৩০ কোটি টাকার বেশি

IMG_2390

চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। শনিবার (১২ জুলাই) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, মৃত প্রাণীর মধ্যে রয়েছে ৪৬টি গরু, ১২৩টি ছাগল, ৪০টি ভেড়া, ১ লাখ ১১ হাজার ৯৮টি মুরগি এবং ১ হাজার ৫২১টি হাঁস। শুধু প্রাণীর মৃত্যুর কারণে ক্ষতির পরিমাণ ধরা হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভাগের ৩৬টি উপজেলার ১৫৬টি ইউনিয়নে গবাদিপশুর খাদ্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন্যায় ১৮ হাজার ৪৬৮ টন খড়, ঘাস ও কনসেনট্রেট ফিড নষ্ট হয়েছে। এর মধ্যে ১১ হাজার ৯২০ টন খড়, ৬ হাজার ৪৩০ টন ঘাস এবং ১১৮ টন কনসেনট্রেট ফিড রয়েছে। শুধু পশুখাদ্য খাতেই ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।

এ ছাড়া বন্যায় ৩৩টি প্রাণিসম্পদ কার্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ২ হাজার ১২৬ একর চারণভূমি পানিতে তলিয়ে গেছে এবং ৬৫টি খামারের ৮৩০টি প্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খামার খাতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৭২ লাখ টাকা।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে চট্টগ্রাম জেলায়। সেখানে ৩৫টি গরু, ৮৭টি ছাগল, ৪০টি ভেড়া, ১ লাখ ৩৯৫টি মুরগি এবং ১ হাজার হাঁস মারা গেছে। জেলাটিতে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৮ কোটি ১৭ লাখ টাকা।

Advertisements

কক্সবাজারে ৮টি গরু, ১২টি ছাগল, ৭ হাজার ৫০৩টি মুরগি ও ৫২১টি হাঁস মারা গেছে। জেলায় মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

বান্দরবানে একটি গরু, ১০টি ছাগল ও ১ হাজার মুরগির মৃত্যু হয়েছে। সেখানে মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১২ লাখ টাকা।

রাঙামাটিতে একটি গরু, ১১টি ছাগল ও ১ হাজার ৫০০টি মুরগি মারা গেছে। জেলায় মোট ক্ষতি প্রায় ১৪ লাখ ৮৫ হাজার টাকা।

খাগড়াছড়িতে তুলনামূলক কম ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে ৩টি ছাগল ও ৭০০টি মুরগি মারা গেছে। মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৯ লাখ ১৫ হাজার টাকা।

প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি প্রাথমিক হিসাব। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর মাঠপর্যায়ে পুনর্মূল্যায়ন শেষে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের পুনর্বাসন এবং জরুরি পশুখাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Advertisements
গবাদি পশুচট্টগ্রামবন্যামৃত্যু