বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬
বিবিধ

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট ফিরল সংবিধানে

IMG_2195

বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি বিধান অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান পুনর্বহাল হলো বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টায় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল খারিজ করে সর্বোচ্চ আদালত এ সিদ্ধান্ত দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিটকারীদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া এবং জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

রায় ঘোষণার পর আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির একে ‘ঐতিহাসিক রায়’ বলে মন্তব্য করেন।

Advertisements

এর আগে বুধবার টানা তিন দিনের শুনানি শেষে আপিল বিভাগ রায়ের জন্য ৯ জুলাই দিন নির্ধারণ করেন। গত বছরের ১৩ নভেম্বর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেন সর্বোচ্চ আদালত। পরে ৩ নভেম্বর রিটকারী সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া লিভ টু আপিল দায়ের করেন। ওই আবেদনে পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোপুরি বাতিলের আবেদন জানানো হয়।

গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি বিধানকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও অবৈধ ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে সংবিধানে গণভোটের বিধান পুনর্বহাল করেন। তবে পুরো পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল করা হয়নি।

রায়ে হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ দেন, গণতন্ত্র সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ এবং তা অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত নির্বাচনের মাধ্যমেই বিকশিত হয়। দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেনি এবং সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে মানুষের আস্থা নষ্ট হয়েছে, যার পরিণতিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়।

আদালত আরও বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে যুক্ত হয়েছিল এবং সময়ের সঙ্গে এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়েছে। তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তি সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনীর ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় তা বাতিল করা হয়।

এছাড়া পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংযোজিত সংবিধানের ৭ক, ৭খ ও ৪৪(২) অনুচ্ছেদও বাতিল ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে গণভোট বিলুপ্তি সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনীর ৪৭ ধারাও অসাংবিধানিক ঘোষণা করে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে গণভোটের বিধান পুনর্বহাল করা হয়।

তবে আদালত স্পষ্ট করেন, পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি। অবশিষ্ট বিধানগুলোর বিষয়ে ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদ জনগণের মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধন, পরিমার্জন বা পরিবর্তন আনতে পারবে।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়। ওই সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়, শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়, নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করা হয় এবং সংবিধানের বিভিন্ন ধারায় একাধিক পরিবর্তন আনা হয়।

Advertisements
আইনগণভোট