বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬
বিবিধ

স্ত্রী হত্যার পর মরদেহ ঝুলাতে ব্যর্থ, সন্তানকে নিয়ে পালালেন ইমাম

IMG_2191

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীতে স্ত্রীকে হত্যা করে মরদেহ ঘরের বিছানায় ফেলে রেখে চার বছরের সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনার রহস্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী ও স্থানীয় এক মসজিদের ইমাম মো. মুহাসিন মাতুব্বরকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন।

নিহত আয়েশা আক্তার (২৮) মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার বালিগাঁও ইউনিয়নের পূর্ব বালিগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামী মুহাসিন মাতুব্বর (৩২) পূর্ব বালিগাঁও জামে মসজিদের ইমাম এবং গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বাহারা গ্রামের ওমর আলী মাতুব্বরের ছেলে। তাদের চার বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

পিবিআইয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী আয়েশা ও মুহাসিনের বিয়ে হয়। গত প্রায় ছয় মাস ধরে তারা পূর্ব বালিগাঁও গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। তদন্তে জানা গেছে, বিয়ের আগে আয়েশার দুটি বিয়ে হয়েছিল। বিষয়টি স্বামীর কাছে গোপন রাখার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের আগের রাত ৫ জুলাই এশার নামাজ শেষে বাসায় ফিরে মুহাসিন দেখেন, তার স্ত্রী পুরোনো একটি জামা পরে আছেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তিনি স্ত্রীকে চড়-থাপ্পড় মারেন এবং তার পরনের জামা ছিঁড়ে ফেলেন।

Advertisements

পরদিন ৬ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নাস্তা প্রস্তুত না থাকার কারণ জানতে চাইলে আয়েশা জানান, তার মাথাব্যথা করছে। এ নিয়ে আবারও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে মুহাসিন স্ত্রীর আগের বিয়ে নিয়ে গালিগালাজ শুরু করেন এবং তাকে মারধর করেন। পরে তিনি আয়েশার গলা চেপে ধরে পেছনের দেয়ালে ধাক্কা দিলে কাঠের পাটাতনে আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেন মুহাসিন। তিনি মরদেহের গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি। পরে মরদেহ খাটের ওপর ফেলে রেখে চার বছরের মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. শামীম তালুকদার বাদী হয়ে টঙ্গীবাড়ী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে পিবিআই মুন্সীগঞ্জের একটি বিশেষ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ৮ জুলাই অভিযুক্ত মুহাসিন মাতুব্বরকে গ্রেপ্তার করে। আদালতে সোপর্দ করার পর তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রনি দেবনাথ জানান, জবানবন্দিতে অভিযুক্ত স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

পিবিআই মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আয়েশা আরা জাহান বলেন, প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে জানা গেছে। ঘটনার অন্যান্য দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Advertisements
ইমামস্ত্রীহত্যা