কিডনি সুস্থ রাখতে খাদ্যাভ্যাসে কেন থাকবে চর্বিযুক্ত মাছ

চর্বিযুক্ত মাছ হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী—এ তথ্য অনেকেরই জানা। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ মাছ নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস কিডনির সুস্থতা বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। স্যামন, ম্যাকারেল, ট্রাউট ও টুনার মতো মাছ কিডনির কার্যক্ষমতা ধরে রাখা, প্রদাহ কমানো এবং ক্রনিক কিডনি ডিজিজের (সিকেডি) ঝুঁকি হ্রাসে সহায়ক হতে পারে।
বিশ্বজুড়ে ক্রনিক কিডনি ডিজিজ একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি ১০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে প্রায় একজন এই রোগে আক্রান্ত। উদ্বেগের বিষয় হলো, কিডনির ক্ষতি অনেক সময় দীর্ঘদিন কোনো লক্ষণ ছাড়াই বাড়তে থাকে। তাই চিকিৎসকদের মতে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস কিডনি সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কিডনি শরীর থেকে বর্জ্য অপসারণের পাশাপাশি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, শরীরে পানি ও খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখা, রক্ত তৈরিতে সহায়তা এবং বিভিন্ন বিপাকীয় কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনি ঠিকভাবে কাজ না করলে শরীরে ক্ষতিকর বর্জ্য জমে নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চর্বিযুক্ত মাছের অন্যতম প্রধান উপাদান ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। আর দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ কিডনির ক্ষতির অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যারা নিয়মিত মাছ খান, তাদের কিডনির স্বাস্থ্য তুলনামূলক ভালো থাকে। যদিও শুধু মাছ খেলেই কিডনি রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, তবু এটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
হৃদযন্ত্র ও কিডনির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। উচ্চ রক্তচাপ কিডনি বিকলের অন্যতম প্রধান কারণ। আবার কিডনির সমস্যাও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। চর্বিযুক্ত মাছ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, রক্তনালির কার্যক্ষমতা উন্নত করে এবং রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমাতে ভূমিকা রাখে। এতে কিডনির ওপর চাপও কম পড়ে।
এ ধরনের মাছ উচ্চমানের প্রোটিনেরও ভালো উৎস। এতে শরীরের প্রয়োজনীয় সব অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিড পাওয়া যায়। পাশাপাশি ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি-১২, সেলেনিয়ামসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান রয়েছে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, হাড়, স্নায়ু ও কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়তা করে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, কোনো একক খাবার কিডনি রোগ প্রতিরোধ করতে পারে না। মাছ, শাকসবজি, ফল, গোটা শস্য ও স্বাস্থ্যকর চর্বিসমৃদ্ধ সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ ও রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখা কিডনি সুস্থ রাখতে বেশি কার্যকর।
যাদের আগে থেকেই ক্রনিক কিডনি ডিজিজ রয়েছে, তাদের খাদ্যতালিকা চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত। কারণ কিছু মাছে ফসফরাস ও পটাশিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকতে পারে, যা নির্দিষ্ট রোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
পুষ্টিবিদদের পরামর্শ, সপ্তাহে অন্তত দুই দিন চর্বিযুক্ত মাছ খাওয়ার চেষ্টা করা উচিত। তবে মাছ গ্রিল, বেক, স্টিম বা এয়ার-ফ্রাই করে খাওয়াই সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর। অতিরিক্ত তেলে ভাজা বা বেশি লবণ ও প্রসেসড সস ব্যবহার করে রান্না করা মাছ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।



