বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬
জীবনযাপন

কেন অনেকের জীবনে মায়ের পর সবচেয়ে আপন হয়ে ওঠেন খালারা

Brazil, Women, family, Music, Musical instrument

বাংলাদেশি পরিবারগুলোতে একটি দৃশ্য খুব পরিচিত—সন্তান কোনো গোপন কথা বলার আগে খালাকে বলে দেয়, ‘এটা কিন্তু আম্মুকে বলবে না।’ পরীক্ষার ফল খারাপ হওয়া, বন্ধুদের সঙ্গে লুকিয়ে কোথাও যাওয়া, অপ্রত্যাশিত খরচ কিংবা ব্যক্তিগত সম্পর্কের নানা গল্প—এমন বহু বিষয় আছে, যা বাবা-মায়ের চেয়ে খালার সঙ্গে ভাগ করে নিতে বেশি স্বস্তি বোধ করে অনেকে। আর এখান থেকেই বোঝা যায় পরিবারের এই সম্পর্কটির আলাদা গুরুত্ব।

বাঙালি পারিবারিক সংস্কৃতিতে খালারা বরাবরই বিশেষ এক জায়গা দখল করে আছেন। তারা একদিকে পরিবারের বড় সদস্য, অন্যদিকে অনেক সময় সন্তানদের সবচেয়ে কাছের বন্ধু। প্রয়োজন হলে শাসন করেন, আবার একই সঙ্গে হয়ে ওঠেন নিরাপদ আশ্রয়ও। এই ভারসাম্যের কারণেই ছোটবেলা থেকে বড় হওয়া পর্যন্ত জীবনের অসংখ্য মুহূর্তে তাদের উপস্থিতি আলাদা গুরুত্ব পায়।

অনেকের শৈশব স্মৃতির বড় অংশজুড়ে থাকে ‘খালার বাড়ি’। ছুটির দিনে সেখানে বেড়াতে যাওয়া, খালাতো ভাইবোনদের সঙ্গে খেলাধুলা, পারিবারিক জমায়েত কিংবা নির্ভার কিছু সময় কাটানো—এসব অভিজ্ঞতা বহু মানুষের কাছে আজও আনন্দের স্মৃতি হয়ে আছে। ছোটবেলার সেই দিনগুলোতে খালার বাড়ি যেন ছিল আলাদা এক স্বাধীনতার জায়গা।

শুধু পরিবেশ নয়, খাবারের স্মৃতিতেও খালাদের জায়গা বিশেষ। পরিচিত খাবার হলেও খালার হাতে তৈরি বিকেলের নাশতা বা হঠাৎ বানানো কোনো প্রিয় পদ অনেকের কাছেই অন্যরকম অনুভূতি তৈরি করে। কারণ সেখানে স্বাদের পাশাপাশি থাকে মমতা আর পারিবারিক উষ্ণতার ছোঁয়া।

Advertisements

বয়স বাড়ার সঙ্গে এই সম্পর্ক আরও গভীর হয়। একসময় যিনি ছোটবেলায় আদর করে পছন্দের খাবার কিনে দিতেন, তিনিই পরে হয়ে ওঠেন গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শদাতা। উচ্চশিক্ষা, পেশা নির্বাচন, সম্পর্ক কিংবা জীবনের কঠিন সিদ্ধান্তের মতো বিষয়ে অনেকেই খালার সঙ্গে কথা বলতে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন।

পরিবারের খবরাখবর রাখার ক্ষেত্রেও খালাদের ভূমিকা অনেক সময় আলাদা চোখে পড়ে। পরিবারের সদস্যদের ছোট-বড় নানা ঘটনা প্রায়ই সবার আগে তাদের জানা থাকে। কার মন খারাপ, কে নতুন কোথাও ভর্তি হয়েছে, কে সফলতা পেয়েছে—এসব বিষয়ে তারা মায়ের মতোই আগ্রহী থাকেন।

বর্তমান সময়ে পরিবারগুলো ভৌগোলিকভাবে দূরে সরে গেলেও এই সম্পর্কের উষ্ণতা অনেক ক্ষেত্রে একই থাকে। দূরে থেকেও ফোনে খোঁজ নেওয়া, হঠাৎ ভিডিও কলে কথা বলা কিংবা বিশেষ দিনে শুভেচ্ছা জানানো—এসব ছোট ছোট যোগাযোগ অনেকের জন্য আবেগের জায়গা তৈরি করে।

পারিবারিক স্মৃতির দিকে ফিরে তাকালে দেখা যায়, জীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে কোনো না কোনো খালার উপস্থিতি রয়েছে। কখনো তিনি পাশে দাঁড়িয়ে সান্ত্বনা দিয়েছেন, কখনো ছোটখাটো দুষ্টুমিতে সঙ্গী হয়েছেন, আবার কখনো বাবা-মায়ের কঠোরতার মুহূর্তে হয়ে উঠেছেন নীরব রক্ষাকবচ।

সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, খালাদের সঙ্গে এই ঘনিষ্ঠতার অন্যতম কারণ তাদের পারিবারিক অবস্থান। তারা অভিভাবকের মতো দায়িত্বশীল হলেও সবসময় সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করেন না। ফলে সন্তানরা অনেক বিষয়েই তাদের কাছে সহজে মনের কথা খুলে বলতে পারে।

জীবনের অনেক সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে বদলে যায়। তবে শৈশব, কৈশোর আর বড় হওয়ার নানা স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা খালাদের প্রতি সেই নির্ভরতা ও ভালোবাসা বহু মানুষের জীবনেই দীর্ঘ সময় ধরে একইভাবে রয়ে যায়।

Advertisements
খালা-ভাগ্নিসন্তানসম্পর্ক