এক চুমুক জুসের মূল্য, ২ লাখ ৭৭ হাজার ডলার!

মাত্র ১.৬৯ ডলারের একটি কমলার জুস। দাম শুনলে মনে হতে পারে, এ নিয়ে আবার কী এমন ঘটনা ঘটতে পারে! অথচ এই সামান্য একটি জুসই যুক্তরাষ্ট্রে কর্মীদের অধিকার, মানবিকতা এবং কর্মক্ষেত্রের নীতিমালা নিয়ে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দেয়।
লিন্ডা অ্যাটকিনস যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বিক্রয় প্রতিষ্ঠান ডলার জেনারেলে ক্যাশিয়ার হিসেবে কাজ করতেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে অনেক সময় হঠাৎ রক্তে শর্করার মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিনি বা মিষ্টিজাতীয় কিছু গ্রহণ না করলে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে জীবনহানির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
একদিন দায়িত্ব পালন করার সময় ঠিক এমনই এক জরুরি পরিস্থিতির মুখোমুখি হন লিন্ডা। রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত কমে যাওয়ায় তিনি দোকানের তাক থেকে ১.৬৯ ডলার মূল্যের একটি কমলার জুস খুলে পান করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পরপরই তিনি জুসটির পুরো মূল্য পরিশোধ করেন। কিন্তু তাতেও রক্ষা হয়নি। কয়েকদিন পর প্রতিষ্ঠানটি তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে। কোম্পানির যুক্তি ছিল, তিনি প্রতিষ্ঠানের ‘গ্রেজিং পলিসি’ লঙ্ঘন করেছেন। এই নীতিমালা অনুযায়ী, মূল্য পরিশোধের আগে কোনো কর্মী দোকানের কোনো পণ্য ব্যবহার বা খেতে পারবেন না।
লিন্ডা অবশ্য আদালতে জানান, এর আগেই তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করেছিলেন যেন জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য ক্যাশ কাউন্টারের কাছে একটি জুস রাখার অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু তার সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল।
ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত আদালতে পৌঁছায়। মামলার শুনানি শেষে জুরি বোর্ডের মত ছিল, লিন্ডা কোনো নিয়ম ভাঙার উদ্দেশ্যে জুস পান করেননি; তিনি একটি প্রকৃত চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থার মধ্যে ছিলেন। তাই তার সঙ্গে অন্যায্য আচরণ করা হয়েছে। আদালত লিন্ডার পক্ষে রায় দিয়ে তাকে ২ লাখ ৭৭ হাজার ৫৬৫ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন।
এই ঘটনা কেবল একটি কমলার জুসের মূল্য নিয়ে নয়। এটি কর্মক্ষেত্রে মানবিকতা, স্বাস্থ্যগত প্রয়োজন এবং প্রতিষ্ঠানের কঠোর নীতিমালার সীমা কোথায় হওয়া উচিত- সেই প্রশ্নও সামনে নিয়ে আসে।
আইন ও নীতিমালা অবশ্যই প্রয়োজন। তবে যখন একজন কর্মীর জীবন ও স্বাস্থ্যের প্রশ্ন আসে, তখন নিয়মের প্রয়োগ কতটা মানবিক হওয়া উচিত- লিন্ডা অ্যাটকিনসের ঘটনা সেই আলোচনাকেই নতুন করে উসকে দিয়েছে।



