বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬
জীবনযাপন

ওজন কমাতে যে ডায়েটগুলো এড়িয়ে চলা উচিত

1727945881_new-project-2024-10-03t142633-223

সুস্থ থাকতে শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। তবে ওজন কমানোর তাড়নায় অনেকেই এমন কিছু ডায়েট অনুসরণ করেন, যা সাময়িকভাবে ওজন কমালেও দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওজন কমাতে শর্টকাট নয়, বরং সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই সবচেয়ে কার্যকর।

শরীরের ওজনে কী কী থাকে?

একজন মানুষের শরীরের ওজন শুধু চর্বি দিয়ে গঠিত নয়। এর মধ্যে রয়েছে পানি, পেশি, হাড়, রক্ত, মস্তিষ্কসহ বিভিন্ন উপাদান।
পুরুষের শরীরের ৫৫–৬৫ শতাংশ এবং নারীর ৪৫–৬০ শতাংশই পানি।

-সচল জীবনযাপনকারীদের শরীরে পেশির পরিমাণ থাকে প্রায় ৩০–৪০ শতাংশ।
-নারীদের শরীরে চর্বি থাকে ১৮–৩০ শতাংশ, আর পুরুষদের ক্ষেত্রে তা ১০–২০ শতাংশ।
-হাড়ের ওজন মোট দেহের ১০–১৫ শতাংশ এবং রক্তের পরিমাণ প্রায় ৭–৮ শতাংশ।
-মস্তিষ্কের ওজন মোট শরীরের প্রায় ২ শতাংশ।

Advertisements

কেন বাড়ে ওজন?

ওজন একদিনে বাড়ে না। দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ক্যালরি গ্রহণ, কম শারীরিক পরিশ্রম, অপর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ ও হরমোনগত পরিবর্তনের কারণে ধীরে ধীরে শরীরে চর্বি জমতে থাকে। ফলে শুধু খাবার কম খেলেই ওজন কমবে- এমন ধারণা ঠিক নয়। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি জীবনযাপনেও পরিবর্তন আনতে হয়।

যেসব ডায়েট থেকে দূরে থাকবেন

ক্র্যাশ ডায়েট

খুব কম খেয়ে দ্রুত ওজন কমানোর চেষ্টা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এতে পুষ্টির ঘাটতি, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা এবং পেশি ক্ষয়ের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। আবার স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসে ফিরলে দ্রুত ওজনও বেড়ে যায়।

এক ধরনের খাবারের ডায়েট

শুধু ফল, শুধু স্যুপ বা শুধু জুস খেয়ে ওজন কমানোর চেষ্টা করলে শরীর প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি পায় না। ফলে ভিটামিন, মিনারেল ও প্রোটিনের ঘাটতি তৈরি হতে পারে।

ডিটক্স ডায়েট

ডিটক্স ওয়াটার বা ডিটক্স ডায়েট ওজন কমাতে কার্যকর- এমন শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বরং দীর্ঘদিন এ ধরনের ডায়েট অনুসরণ করলে প্রোটিনসহ প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি হতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণভাবে প্রতি কেজি ওজনের জন্য প্রতিদিন ৩০- ৩৫ মিলিলিটার পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

পুরো খাদ্যগোষ্ঠী বাদ দেওয়া

কার্বোহাইড্রেট, ফল বা দুগ্ধজাত খাবার সম্পূর্ণ বাদ দিলে শরীরে পুষ্টির ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ ছাড়া এ ধরনের ডায়েট অনুসরণ করা উচিত নয়।

অতিরিক্ত প্রোটিননির্ভর ডায়েট

শুধু প্রোটিন খেয়ে ওজন কমানোর চেষ্টা করাও ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে প্রাণিজ প্রোটিন বেশি খেয়ে শাকসবজি ও আঁশযুক্ত খাবার কম খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য, কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ, হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি, ইউরিক অ্যাসিড বৃদ্ধি এবং অন্ত্রের উপকারী জীবাণুর ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন কমানোর উপায়

ওজন কমানোর মূল চাবিকাঠি হলো দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা। এজন্য প্রয়োজন:

-সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ
-অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়া
-প্রতিদিন পর্যাপ্ত শাকসবজি, ফল ও আঁশযুক্ত খাবার রাখা
-নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম করা
-পর্যাপ্ত পানি পান করা
-মানসিক চাপ কমানো এবং প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা

ওজন কমানো কোনো স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্য নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যকর জীবনধারার অংশ। তাই দ্রুত ফল পাওয়ার আশায় ঝুঁকিপূর্ণ ডায়েটের বদলে টেকসই ও সুষম খাদ্যাভ্যাসই হতে পারে সুস্থ থাকার সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

Advertisements
ওজনডায়েটসুস্থস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন