বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬
বিবিধ

‘সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন নারীরা’- সংসদে রুমিন ফারহানার অভিযোগ

image-465419-1631699973

সাইবার স্পেসে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাইবার সুরক্ষা আইনের অপব্যবহার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি তুলেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় সদস্যরা। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) বিল নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা এ আহ্বান জানান।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব নিষ্পত্তির পর কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়। নতুন সংশোধনের মাধ্যমে সাইবার সুরক্ষা আইনের ২০ ধারা বাতিল করা হয়েছে। এ ধারায় সাইবার স্পেসে জুয়া-সংক্রান্ত অপরাধ ও শাস্তির বিধান ছিল। সরকার জানিয়েছে, অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে পৃথক আইনে আরও বিস্তারিত সংজ্ঞা ও শাস্তির বিধান অন্তর্ভুক্ত করায় পুরোনো আইন থেকে এ ধারা বাদ দেওয়া হয়েছে।

বিলের ওপর আলোচনায় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, রাজনীতিবিদ, গণমাধ্যমকর্মীসহ জনপরিচিত ব্যক্তিরা নিয়মিত সাইবার বুলিং ও বিভিন্ন ধরনের অনলাইন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে নারীদের জন্য ডিজিটাল পরিসর দিন দিন আরও অনিরাপদ হয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। রুমিন ফারহানা বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভুয়া তথ্য, বিকৃত ছবি ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে নারীদের লক্ষ্যবস্তু বানানো হচ্ছে। তাই রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সব নারীর জন্য নিরাপদ সাইবার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে বিরোধী মতের মানুষের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের প্রবণতা ভবিষ্যতে ‘বুমেরাং’ হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

আলোচনায় জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী অভিযোগ করেন, অতীতে সরকারবিরোধী মত প্রকাশ করায় শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক কর্মীদের বিরুদ্ধে সাইবার আইন ব্যবহার করে হয়রানি করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন এমন অপব্যবহার না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। একই দলের সংসদ সদস্য জি এম নজরুল ইসলাম বলেন, সাইবার অপরাধ দমন এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অবকাঠামো সুরক্ষায় শক্তিশালী আইন প্রয়োজন। তবে সেই সঙ্গে নাগরিকের বাক্‌স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকারও সমানভাবে রক্ষা করতে হবে।

Advertisements

মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, এআইয়ের অপব্যবহার, ভুয়া তথ্য ছড়ানো এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি সৃষ্টির মতো অপরাধ মোকাবিলায় আইন প্রয়োজন হলেও সেটি যেন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করার হাতিয়ার না হয়। বিতর্কে অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, নারীর নিরাপত্তাসহ সমাজের স্বার্থে এ আইন গুরুত্বপূর্ণ হলেও অতীত অভিজ্ঞতার কারণে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তাই আইনের ন্যায়সংগত ও সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চরিত্রহনন, অপতথ্য, গুজব, মানহানিকর কনটেন্ট এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা ঠেকাতে সরকার পৃথক উদ্যোগ নিচ্ছে। এ বিষয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে নতুন সংশোধনী বা বিল আনা হবে বলেও জানান তিনি।

Advertisements
নারীরুমিন ফারহানাসংসদ সদস্যসাইবার বুলিংসাইবার স্পেস