বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনসোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬
বিবিধ

ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে প্রাণ গেল আর্জেন্টাইন ফুটবলার লুকাস ট্রেইহোর স্ত্রী ও দুই সন্তানের

h7vbvbgs_lucas-trejo-footballer-loses-wife-and-children-in-venezuela_625x300_29_June_26

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর টানা ৭৪ ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানের শেষে আর্জেন্টাইন ফুটবলার লুকাস ট্রেইহোর স্ত্রী ইয়ানিনা মারানেয়া এবং তাদের দুই সন্তান অ্যারন ও আইনোয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় ক্লাব ও বিভিন্ন গণমাধ্যম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

৩৮ বছর বয়সী ডিফেন্ডার ট্রেইহো ভূমিকম্পের সময় রাজধানী কারাকাসে নিজের ক্লাবের লিগ ম্যাচের প্রস্তুতিতে ছিলেন। এদিকে তার পরিবার প্লায়া গ্রান্দে এলাকার একটি আবাসিক ভবনে অবস্থান করছিল। শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে ভবনটি ধসে পড়লে তাদের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

পরিবারের খোঁজ না পেয়ে ট্রেইহো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন আবেদন জানান। তিনি সবাইকে পরিবারের জন্য প্রার্থনা করতে এবং কেউ তাদের সম্পর্কে কোনো তথ্য জানলে তা দ্রুত জানানোর অনুরোধ করেন। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি আশা করেছিলেন, তার স্ত্রী ও সন্তানরা হয়তো জীবিত রয়েছেন।

তবে শনিবার গভীর রাতে উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে ইয়ানিনা ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করেন। এরপর ট্রেইহোর ক্লাব দেপোর্তিভো লা গুয়ারা এক শোকবার্তায় তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। ক্লাবটি ট্রেইহো ও তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করেছে।

ট্রেইহোর সাবেক ক্লাব মারিতিমো দে লা গুয়ারাও পৃথক বিবৃতিতে শোক প্রকাশ করে জানায়, দীর্ঘ ৭৪ ঘণ্টার অনুসন্ধান শেষে তার পরিবারের সদস্যদের মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া ট্রেইহোর সতীর্থ এদসন তোর্তোলেরোও ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবক ও জরুরি সেবাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পরিবারের সন্ধানে সহায়তা করতে ট্রেইহোর বাবা ও ভাইও ভেনেজুয়েলায় পৌঁছেছিলেন। মরদেহ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টা আগেও ট্রেইহো স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে তোলা একটি পারিবারিক ছবি শেয়ার করে তাদের নিরাপদে ফিরে আসার আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন।

চলতি বছরের শুরুতে ট্রেইহোর জন্মদিন উপলক্ষে ইয়ানিনা এক আবেগঘন বার্তায় তাকে পরিবারের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, পরিবারের পাশে ট্রেইহো থাকায় জীবনের প্রতিটি পথচলা আরও সহজ ও সুন্দর হয়ে ওঠে।

এদিকে, ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার জোড়া ভূমিকম্পের ধাক্কায় ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্যোগে প্রায় ৬৭ লাখ ৬০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ১,৫০০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ ছাড়া সাবেক মেজর লিগ বেসবল খেলোয়াড় গোরকিস হার্নান্দেসও জানিয়েছেন, একই ভূমিকম্পে তার স্ত্রী দেইসির মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনাগুলো ভেনেজুয়েলায় সংঘটিত মানবিক বিপর্যয়ের ভয়াবহতাকেই আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

আর্জেন্টাইন ফুটবলারভূমিকম্পলুকাস ট্রেইহো