বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬
বিবিধ

গুগল এলার্টে ভেনেজুয়েলায় প্রাণ বাঁচল লাখো মানুষের!

WhatsApp Image 2026-06-25 at 8.13.36 PM

প্রাকৃতিক দুর্যোগের সামনে মানুষ অনেক সময়ই অসহায়। বিশেষ করে ভূমিকম্পের মতো আকস্মিক বিপর্যয় যখন কোনো পূর্বসংকেত ছাড়াই আঘাত হানে, তখন কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানও জীবন-মৃত্যুর পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় ঘটে যাওয়া এক শক্তিশালী ভূমিকম্প সেই বাস্তবতাকেই নতুনভাবে সামনে এনেছে। তবে এবার ধ্বংসযজ্ঞের আগেই লাখো মানুষের হাতে পৌঁছে যায় সতর্কবার্তা, আর সেই কাজটি করেছে তাদেরই স্মার্টফোন।

ভূমিকম্প আঘাত হানার কয়েক সেকেন্ড আগে ভেনেজুয়েলার অসংখ্য অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীর ফোনে জরুরি সতর্কবার্তা ভেসে ওঠে। এতে অনেকেই দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সুযোগ পান। ফলে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে বিষয়টি কোনো অলৌকিক পূর্বাভাস নয়। গুগল ভূমিকম্প ঘটার আগেই তা জানিয়ে দেয়নি; বরং ভূমিকম্প শুরু হওয়ার পর তার প্রাথমিক কম্পন শনাক্ত করে মুহূর্তের মধ্যে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে। এই প্রযুক্তির নাম ‘অ্যান্ড্রয়েড আর্থকোয়েক অ্যালার্টস সিস্টেম’।

বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত কোটি কোটি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের ভেতরে থাকা অ্যাক্সিলেরোমিটার সেন্সরকে কাজে লাগিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে এই বিশাল সতর্কতা নেটওয়ার্ক। যখন কোনো অঞ্চলে একাধিক ফোন একই ধরনের কম্পন শনাক্ত করে, তখন গুগলের অ্যালগরিদম দ্রুত সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে ভূমিকম্পের সম্ভাব্য অবস্থান ও তীব্রতা নির্ধারণ করে।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ নিকহার অরোরার ভাষ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের সময় দুটি প্রধান ধরনের তরঙ্গ সৃষ্টি হয়- পি-ওয়েভ এবং এস-ওয়েভ। পি-ওয়েভ তুলনামূলক দ্রুতগতির এবং কম ক্ষতিকর, আর এস-ওয়েভই মূলত বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ ঘটায়। স্মার্টফোনের সেন্সরগুলো প্রথমে পি-ওয়েভ শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। ফলে এস-ওয়েভ পৌঁছানোর আগেই ব্যবহারকারীদের কাছে সতর্কবার্তা পাঠানো সম্ভব হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েক সেকেন্ড সময়ও জরুরি পরিস্থিতিতে অত্যন্ত মূল্যবান। এই অল্প সময়ের মধ্যেই মানুষ ভবন থেকে বেরিয়ে আসতে, গ্যাস বা বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করতে কিংবা নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে পারে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ ও এনভায়রোকেয়ার ফাউন্ডেশনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হৃষিত পান্থ্রি মনে করেন, ভেনেজুয়েলার এই অভিজ্ঞতা প্রযুক্তিনির্ভর দুর্যোগ প্রস্তুতির এক গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। তার মতে, ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগের নির্ভুল পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব না হলেও দ্রুত শনাক্তকরণ ও তাৎক্ষণিক সতর্কীকরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে বহু প্রাণ রক্ষা করা যায়।

শুধু ভূমিকম্প নয়, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, দাবদাহ কিংবা অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলাতেও একই ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর সতর্কতা ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। স্মার্টফোন, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং রিয়েল-টাইম ডেটা বিশ্লেষণের সমন্বয়ে ভবিষ্যতের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আরও আধুনিক ও কার্যকর হয়ে উঠছে।

ভেনেজুয়েলার এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, প্রযুক্তি হয়তো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঠেকাতে পারে না, কিন্তু সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিয়ে অসংখ্য মানুষের জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অনেকের কাছে ফোনের সেই ছোট্ট সতর্কবার্তাই হয়ে উঠেছিল বেঁচে থাকার শেষ সুযোগ।

গুগল এলার্টপ্রাকৃতিক দুর্যোগ