বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬
বিবিধ

ভারতের অনুমোদন না মেলায় বাংলাদেশে অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি স্থগিত করল নেপাল

electricity-pillars-against-a-colorful-yellow-sunset-silhouette-high-voltage-electric-towers-power-lines-photo

ভারতের অনুমোদন না পাওয়ায় বাংলাদেশে অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত করেছে নেপাল। ফলে চলতি বর্ষা মৌসুমে পূর্বনির্ধারিত ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎই বাংলাদেশে সরবরাহ করবে দেশটি।

জ্বালানি খাতের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, ১৫ জুন থেকে অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে রপ্তানির পরিকল্পনা ছিল নেপালের। তবে ভারতের কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ (সিইএ) ভারত-বাংলাদেশ আন্তঃসীমান্ত সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে প্রয়োজনীয় অনুমোদন দেয়নি।

কর্মকর্তাদের মতে, ভারতের এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যাপার নিগম লিমিটেড (এনভিভিএন) নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে (এনইএ) জানিয়েছে, ১ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ভারত-বাংলাদেশ আন্তঃসীমান্ত সঞ্চালন লাইনে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ পরিবহনের সুযোগ নেই।

এনইএ’র বিদ্যুৎ বাণিজ্য বিভাগের পরিচালক থারকা বাহাদুর থাপা বলেন, সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ রপ্তানির প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছে। ফলে এবার বাংলাদেশে কেবল ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎই রপ্তানি করা হবে।

তিনি জানান, অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদনের জন্য এনভিভিএনের মাধ্যমে ভারতের সিইএর কাছে আবেদন করা হয়েছিল। তবে অনুমোদন না মেলায় পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে এখন নেপাল-ভারত যৌথ স্টিয়ারিং কমিটি (জেএসসি) ও যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডব্লিউজি) বৈঠকে আলোচনা হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)কে অন্তর্ভুক্ত করে নতুন বা সংশোধিত ত্রিপক্ষীয় চুক্তিরও প্রয়োজন হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের অক্টোবরে নেপাল, বাংলাদেশ ও ভারতের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় প্রতি বছর ১৫ জুন থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির ব্যবস্থা করা হয়। সেই চুক্তির ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ১৫ নভেম্বর প্রথমবারের মতো নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়।

পরে ২০২৫ সালের নভেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে বাংলাদেশে অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দেওয়া হয়, যা বাস্তবায়িত হলে মোট রপ্তানি ৬০ মেগাওয়াটে উন্নীত হওয়ার কথা ছিল।

বর্তমানে বাংলাদেশে রপ্তানি হওয়া ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নেপালের ত্রিশূলী ও চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে উৎপাদিত হচ্ছে। তবে অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির জন্য এসব প্রকল্পের বিদ্যুতের ওপর পৃথক ভারতীয় অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

নেপালবাংলাদেশবিদ্যুৎভারত