বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনসোমবার, ২২ জুন, ২০২৬
স্বাস্থ্য

ত্বকে গোটার কারণ ও ধরন: ব্রণ থেকে টিউমার-জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

images (4)

ত্বকে ছোট ছোট গোটার মতো অংশ দেখা দেওয়া অনেকেরই সাধারণ সমস্যা। এসব গোটা কখনো ত্বকের ওপর, আবার কখনো ত্বকের নিচে তৈরি হতে পারে। মুখ ছাড়াও শরীরের বিভিন্ন অংশে বিভিন্ন কারণে এ ধরনের পরিবর্তন দেখা দেয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এগুলো গুরুতর নয়, তবে ধরন বুঝে সতর্ক থাকা জরুরি।

ব্রণ: সবচেয়ে পরিচিত ত্বকের সমস্যা

সাধারণত বয়ঃসন্ধিকাল থেকেই ব্রণের সমস্যা শুরু হয়। হরমোনের পরিবর্তন এবং ত্বকে জীবাণুর সংক্রমণ—দুই কারণেই ব্রণ হতে পারে। তবে শুধু কিশোর বয়সেই নয়, ২০–২২ বছর বা তার পরেও অনেকেই এই সমস্যায় ভোগেন।

ব্রণের ক্ষেত্রে গোটার মাঝখানে কালচে বা সাদা মাথা দেখা যায় এবং হালকা ব্যথাও থাকতে পারে।

সিস্ট: নরম তরলপূর্ণ গুটি

যেকোনো বয়সেই ত্বকে সিস্ট হতে পারে। এটি মূলত তরলপূর্ণ একটি থলির মতো গঠন। চাপ দিলে এটি তুলনামূলকভাবে নরম মনে হয়।

সিস্ট ধীরে ধীরে বড় হতে পারে, আবার স্থিতিশীলও থাকতে পারে। সংক্রমণ না হলে সাধারণত এর চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না।

কিছু সিস্টের মুখ খুলে সাদাটে তরল বের হতে পারে, যা পুঁজ নয়। তবে সংক্রমণ হলে ব্যথা, লালচে ভাব ও পুঁজ দেখা দিতে পারে।

ফোড়া: ব্যথাযুক্ত পুঁজভর্তি গুটি

ত্বকে জীবাণু সংক্রমণের কারণে ফোড়া তৈরি হয়। গরম ও আর্দ্র পরিবেশে ঘাম ও ময়লা জমে এই সমস্যা বাড়তে পারে।

ফোড়ার ভেতরে পুঁজ জমে থাকায় এটি সাধারণত খুব ব্যথাযুক্ত হয় এবং জায়গাটি লাল হয়ে যায়।

টিউমারজাতীয় গুটি

কিছু ক্ষেত্রে ত্বক বা ত্বকের নিচে শক্ত ধরনের গুটি তৈরি হতে পারে, যা টিউমার হিসেবে ধরা হয়। এগুলো সাধারণত স্থির থাকে এবং নড়ানো যায় না।

এ ধরনের গুটি দ্রুত বড় হলে সতর্ক হওয়া জরুরি। তবে সব টিউমারই বিপজ্জনক নয়। যেমন লাইপোমা হলো চর্বিজাতীয় টিউমার, যা সাধারণত নিরীহ এবং দীর্ঘদিন একই অবস্থায় থাকতে পারে।

কখন সতর্ক হবেন

ত্বকে গুটি দেখা দিলে কিছু বিষয়ে সাবধান থাকা জরুরি। গুটি খোঁচানো, চেপে ধরা বা সুই দিয়ে ফাটানোর চেষ্টা করা উচিত নয়। এতে সংক্রমণ বেড়ে যেতে পারে।

মুখ বা শরীরের গুটির ওপর দিয়ে ব্লেড বা রেজার চালানোও ঝুঁকিপূর্ণ।

ত্বকের যত্ন ও চিকিৎসা

ব্রণ হলে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি। দিনে দুইবার ফেসওয়াশ ব্যবহার করা এবং তেলযুক্ত প্রসাধনী এড়িয়ে চলা ভালো।

তবে দীর্ঘস্থায়ী বা গুরুতর ব্রণের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নিজে থেকে ওষুধ বা মলম ব্যবহার না করাই ভালো।

সিস্ট সাধারণত ক্ষতিকর নয়, তবে সংক্রমণ বা বড় হয়ে গেলে চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে। আর টিউমারজাতীয় গুটি দেখা দিলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ত্বকব্রণস্বাস্থ্য