বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনসোমবার, ২২ জুন, ২০২৬
বিবিধ

হিজাব ছাড়া গান গাওয়ায় ইরানি গায়িকাকে ৭৪ ঘা চাবুকের সাজা

parastoo-ahmadi

ইউটিউবে সরাসরি সম্প্রচার করা একটি সংগীতানুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জেরে কঠোর শাস্তির মুখে পড়েছেন ইরানের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী পারাস্তু আহমাদি। আদালতের রায়ে তাকে এবং তার প্রযোজনা দলের আট সদস্যকে ৭৪টি করে দোররা মারার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

২০২৪ সালে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে একটি লাইভ কনসার্টে দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন ২৯ বছর বয়সী এই শিল্পী। ‘আজ খুনে জাভানানে ওয়াতান’ শিরোনামের সেই পরিবেশনায় তিনি হিজাব ছাড়াই উপস্থিত হন। অনুষ্ঠানটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিপুল দর্শকপ্রিয়তা লাভ করে। তবে ইরানের আদালত ওই কনটেন্টকে ‘অশ্লীল ও অনৈতিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

গানটি প্রকাশের কিছুদিন পর পারাস্তু আহমাদি ও তার কয়েকজন সহকর্মীকে আটক করা হয়। যদিও পরে তারা মুক্তি পান, তবু তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে। সর্বশেষ আদালতের রায়ে শিল্পী ও তার দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে দোররার শাস্তির পাশাপাশি বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

রায়ে পারাস্তুকে দুই বছরের জন্য কিছু কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশ এবং বিদেশ ভ্রমণের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। মানবাধিকারকর্মী ও সংস্কৃতি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এই রায়কে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক চর্চার ওপর চাপ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, ইরানে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনামূলক অবস্থানে থাকা শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইরানি-ব্রিটিশ অভিনেত্রী নাজানিন বোনিয়াদি, নির্বাসিত অভিনেত্রী সেতারেহ মালেকিসহ বিভিন্ন মানবাধিকারকর্মী।

মানবাধিকার আইনজীবীরা দাবি করেছেন, ইরানের বিদ্যমান আইনে নারীদের গান গাওয়া বা সংগীত পরিবেশনকে সরাসরি অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। তাই এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে ‘অশ্লীলতা’ হিসেবে চিহ্নিত করে শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর ভাষ্য, শুধুমাত্র গান পরিবেশন এবং হিজাব ছাড়া উপস্থিত হওয়ার কারণে এমন শাস্তি দেওয়া মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

ইরানি গায়িকাপারাস্তু আহমাদিসংগীতশিল্পী