বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনরবিবার, ২১ জুন, ২০২৬
বিবিধ

সমুদ্র দিবসে কক্সবাজার সৈকত থেকে সরানো হলো ৭ টন বর্জ্য

Untitled-1-samakal-6428b90869dc4

আন্তর্জাতিক সমুদ্র দিবস উপলক্ষে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত–এর লাবণী ও ইনানী সমুদ্রসৈকত এলাকা থেকে প্রায় ৭ টন বর্জ্য অপসারণ করেছেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য ও পর্যটকেরা। সংগ্রহ করা বর্জ্যের বেশির ভাগই ছিল প্লাস্টিক বোতল, পলিথিন, চিপসের প্যাকেটসহ অপচনশীল আবর্জনা। পরে এসব ময়লা কক্সবাজার পৌরসভার ডাম্পিং স্টেশনে ফেলা হয়।

আন্তর্জাতিক সমুদ্র দিবস-২০২৬ উপলক্ষে গত শুক্রবার সকালে সৈকতের লাবণী পয়েন্টে এবং শনিবার বিকেলে ইনানী সৈকতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কেওক্রাডং বাংলাদেশ। দুই দিনের এই কর্মসূচিতে অংশ নেন সংগঠনের সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

সংগঠনটির পরিচালক মুনতাসির মামুন জানান, প্রায় দুই দশক ধরে তারা পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। কক্সবাজারে বিপুল সংখ্যক পর্যটক আসায় সৈকতে প্রতিনিয়ত ময়লা-আবর্জনা জমছে। এসব বর্জ্য পরে সাগরের পানিতে ছড়িয়ে গিয়ে দূষণ সৃষ্টি করছে এবং পরিবেশের ক্ষতি করছে।

তিনি বলেন, প্লাস্টিক ও অন্যান্য অপচনশীল বর্জ্যের কারণে দিন দিন সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। সৈকতকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা এবং পর্যটকদের সচেতন করতে দীর্ঘদিন ধরেই তারা সমুদ্র দিবসকে ঘিরে এই ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। এবারের দুই দিনের অভিযানে প্রায় ৭ মেট্রিক টন প্লাস্টিক ও অপচনশীল বর্জ্য সরানো হয়েছে।

পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেওয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়–এর শিক্ষার্থী ও বিআরএফ ইয়ুথ ক্লাব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক নিয়াজ মাখদুম বলেন, সৈকত এলাকায় অসংখ্য অপচনশীল বর্জ্য দেখে তারা বিস্মিত হয়েছেন। পর্যটকেরা সচেতন হলে সমুদ্র ও সৈকতের সৌন্দর্য অনেকটাই রক্ষা করা সম্ভব।

অভিযানে অংশ নিতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা সৃজিতা রায় বলেন, সমুদ্র ভ্রমণে এসে মানুষ অসচেতনভাবে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিকজাত বর্জ্য ফেলে যায়। এসব আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেললে সহজেই পুনর্ব্যবহার করা সম্ভব। তার মতে, বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষের মধ্যে প্লাস্টিক ব্যবহারের প্রবণতা বেশি হলেও সচেতনতা বাড়ানো গেলে এই বর্জ্যের পরিমাণ কমিয়ে আনা সম্ভব।

পরিবেশবাদীরা বলছেন, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতকে রক্ষা করতে হলে শুধু পরিচ্ছন্নতা অভিযান নয়, পর্যটকদের মাঝেও পরিবেশ সচেতনতা তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।

কক্সবাজারবর্জ্যসমুদ্র দিবস