বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনরবিবার, ২১ জুন, ২০২৬
নারী

রাজনীতিতে নারীর পথে বড় বাধা ‘সহিংসতা’

prothomalo-bangla_2026-06-20_hu3d3o9d_BIGD

বাংলাদেশে নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সহিংসতা অন্যতম বড় বাধা হিসেবে উঠে এসেছে নতুন এক গবেষণায়। অনলাইন ও অফলাইন, দুই ক্ষেত্রেই নারীরা নানা ধরনের সহিংসতা ও হয়রানির মুখে পড়ছেন বলে জানিয়েছে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়–এর ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি)।

শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র–এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়। যৌথভাবে এই আয়োজন করে বিআইজিডি ও ইউএন উইমেন। এতে সংসদ সদস্য, নির্বাচন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী ও গবেষকেরা অংশ নেন।

গবেষণায় বলা হয়েছে, পুরুষপ্রধান রাজনৈতিক পরিবেশ, নারীদের আর্থিক সংকট, অর্থনৈতিক নির্ভরতা এবং পারিবারিক দায়িত্বসহ একাধিক কারণে এখনো রাজনীতিতে নারীদের পূর্ণ অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। জাতিসংঘের নির্বাচনী সহায়তা কার্যক্রমের আওতায় পরিচালিত এই গবেষণায় নারী সংসদ সদস্য, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি ও রাজনৈতিক দলের সদস্যদের সঙ্গে ৪৩টি গভীর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। পাশাপাশি আইনি ও নীতিগত কাঠামো পর্যালোচনা করে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন ফারজানা শারমিন। নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সময় প্রতিপক্ষ তার বিরুদ্ধে অনলাইন ও সরাসরি হয়রানিমূলক প্রচার চালিয়েছিল। পরে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়।

তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক পরিবার থেকে আসার পরও যদি তাকে এমন পরিস্থিতির শিকার হতে হয়, তাহলে যেসব নারী সুবিধাজনক অবস্থানে নেই, তারা প্রতিদিন কত কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হন, তা সহজেই বোঝা যায়।

সমাপনী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ আগের তুলনায় বেড়েছে। তবে শুধু অংশগ্রহণ বাড়লেই হবে না, নারীরা যেন রাজনীতিতে কার্যকরভাবে মতামত দিতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করাই বেশি জরুরি।

নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নির্বাচনী প্রচারণায় বাধার মুখে পড়লেও নির্বাচন কমিশন ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী–র ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।

বিআইজিডির নির্বাহী পরিচালক ইমরান মতিন বলেন, নারীর জনজীবনে অংশগ্রহণ, দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নেতৃত্বে তাদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা ছাড়া নারী বিষয়ে কোন আলোচনাই পূর্ণ হতে পারে না।

গীতাঞ্জলি সিং বলেন, একটি কার্যকর গণতন্ত্রের জন্য নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ অপরিহার্য। নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় বেশি নারীর অংশগ্রহণ স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শিশু পরিচর্যা, অবকাঠামো এবং নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

গবেষণায় স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে, নারীরা রাজনীতিতে নিরাপদ ও সমান সুযোগ না পেলে গণতন্ত্রের পূর্ণ বিকাশও বাধাগ্রস্ত হবে।

নারীরাজনীতি