মুক্তি পাচ্ছে কৃতির প্রথম প্রাপ্তবয়স্ক সনদ পাওয়া সিনেমা, কী আছে এতে?

বলিউডের বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘ককটেল ২’ মুক্তির আগেই তৈরি করেছে ব্যাপক আলোচনা। ট্রেলার, গান এবং তারকাবহুল কাস্টের কারণে শুরু থেকেই দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ছবিটি এবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে সেন্সর বোর্ডের সিদ্ধান্তে। ভারতের সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন (সিবিএফসি) ছবিটিকে ‘এ’ বা কেবল প্রাপ্তবয়স্ক দর্শকদের জন্য উপযোগী হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে।
পরিচালক হোমি আদাজানিয়ার এই রোমান্টিক ড্রামা আগামী ১৯ জুন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে। ছবিটির দৈর্ঘ্য ১৫০ মিনিট, অর্থাৎ আড়াই ঘণ্টা। ২০১২ সালে মুক্তি পাওয়া জনপ্রিয় ‘ককটেল’ ছবির তুলনায় এটি চার মিনিট বেশি দীর্ঘ।

‘ককটেল ২’ কৃতি শ্যাননের ক্যারিয়ারে একটি বিশেষ মাইলফলক। ২০১৪ সালে বলিউডে অভিষেকের পর এই প্রথম তাঁর অভিনীত কোনো সিনেমা ‘এ’ সার্টিফিকেট পেল। ‘মিমি’, ‘হিরোপন্তি’, ‘তেরি বাতোঁ মে অ্যায়সা উলঝা জিয়া’ কিংবা ‘দো পত্তি’—কোনো ছবিই প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত ছিল না। ফলে নতুন ছবিটি কৃতির অভিনয়জীবনে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।
অন্যদিকে রাশমিকা মান্দানার জন্য এটি দ্বিতীয় ‘এ’ সার্টিফিকেট পাওয়া হিন্দি ছবি। এর আগে ‘অ্যানিমেল’-এ তাঁর অভিনয় দর্শকদের নজর কাড়ে। নতুন ছবিতেও তিনি অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন।
শহীদ কাপুরের ক্ষেত্রেও ‘ককটেল ২’ একটি নতুন রেকর্ড গড়েছে। এটি তাঁর অভিনীত পঞ্চম ‘এ’ সার্টিফিকেটপ্রাপ্ত সিনেমা। আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তাঁর সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘ও’রোমিও’-এর পর টানা দ্বিতীয়বারের মতো কোনো সিনেমা এই সার্টিফিকেট পেল।
ম্যাডক ফিল্মসের ব্যানারে নির্মিত ছবিটির প্রযোজক দিনেশ বিজন। সহপ্রযোজক হিসেবে রয়েছেন লাভ রঞ্জন, প্রমিতা আর. বিজন ও অঙ্কুর গার্গ। চিত্রনাট্য লিখেছেন লাভ রঞ্জন ও তরুণ জৈন।
ছবির গল্পে আধুনিক সম্পর্কের জটিলতা, বন্ধুত্ব, আকর্ষণ, ঈর্ষা ও আবেগের সংঘাতকে নতুনভাবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রথম পোস্টার ও ট্রেলার থেকেই স্পষ্ট হয়েছে, এটি একটি প্রেমের ত্রিভুজকে কেন্দ্র করে নির্মিত গল্প, যেখানে সম্পর্কের নানা টানাপোড়েন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
২০১২ সালের ‘ককটেল’ শুধু বক্স অফিসে সফল হয়নি, দীপিকা পাড়ুকোনের ক্যারিয়ারেও বড় পরিবর্তন এনে দিয়েছিল। বিশেষ করে তাঁর ‘ভেরোনিকা’ চরিত্রটি দর্শকদের মনে স্থায়ী জায়গা করে নেয়। তাই নতুন ছবিটি সেই জনপ্রিয়তার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারে কি না, তা নিয়েও কৌতূহল রয়েছে দর্শকদের মধ্যে। তবে নির্মাতারা স্পষ্ট করেছেন, ‘ককটেল ২’ কোনো সরাসরি সিক্যুয়েল নয়। বরং আগের ছবির আবহ ও অনুভূতিকে নতুন গল্প ও নতুন চরিত্রের মাধ্যমে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে।
মুক্তির আগেই ছবিটির অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রচারণা ঘিরেও একাধিক ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সব মিলিয়ে ‘ককটেল ২’ এখন বলিউডের অন্যতম আলোচিত সিনেমা, যার বক্স অফিস পারফরম্যান্সের দিকে নজর থাকবে দর্শক ও বিশ্লেষকদের।



