অনলাইনে নারীবিদ্বেষ ঠেকাতে সচেতনতামূলক কনটেন্ট জরুরি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীবিদ্বেষ, ঘৃণামূলক প্রচারণা এবং সাইবার সহিংসতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় ইতিবাচক ও সচেতনতামূলক কনটেন্ট তৈরির আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।
সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। সভায় বক্তারা বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা অনেক ক্ষেত্রেই ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে তবেই প্রশাসনিক উদ্যোগ দেখা যায়, যা কাঙ্ক্ষিত নয়। তাই প্রতিরোধমূলক সচেতনতা বাড়াতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত ইতিবাচক কনটেন্ট প্রকাশ জরুরি।

বক্তারা আরও বলেন, নারীর বাস্তব জীবনসংগ্রাম, অর্জন ও অবদানের গল্পগুলোকে দৃশ্যমান করা দরকার। পাশাপাশি চলচ্চিত্র ও গণমাধ্যমে নারীর উপস্থাপন আরও দায়িত্বশীল ও বাস্তবসম্মত হওয়া উচিত, যাতে সহিংসতা ও বৈষম্যমূলক মানসিকতা কমে আসে। শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক কাজ না করে প্রান্তিক পর্যায়েও সচেতনতা কার্যক্রম বিস্তারের ওপরও জোর দেওয়া হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নারীর প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষকে আরও তীব্র করছে। তাই ডিজিটাল মাধ্যমকে নারীবান্ধব মনোভাব গঠনের জন্য কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে।
স্বাগত বক্তব্যে সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার পরও বর্তমান সময়ে নারী নির্যাতন ও বৈষম্যের প্রবণতা আবারও উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
লিগ্যাল এইড সম্পাদক রেখা সাহা বলেন, নারীরা নানা বাধা ও নির্যাতনের মধ্যেও এগিয়ে যাচ্ছে- তাদের সেই সংগ্রাম ও ইতিবাচক অর্জনগুলো আরও বেশি করে তুলে ধরা প্রয়োজন।
সভায় চলচ্চিত্র নির্মাতা ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, কর্মকর্তাসহ প্রায় ৬০ জন অংশ নেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দিল আফরোজ বেগম।



