গরমে ভাইরাল গ্রিক কিউকাম্বার সালাদের রেসিপি

গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমে পেট ঠান্ডা এবং সতেজ রাখতে টক দই ও শসার মেলবন্ধন খারাপ হয় না। তাই খাবারে একঘেয়েমি চলে এলে ঝটপট তৈরি করে নিতে পারেন গ্রিক কিউকাম্বার সালাদ বা টক দই দিয়ে শসার সালাদ।
প্রয়োজনীয় উপকরণ
-কুচানো বা স্লাইস করা শসা
-অবশ্যই পানি ঝরানো ঘন টক দই
-অলিভ অয়েল। আপনি ক্যালরি নিয়ে চিন্তিত হলে রেসিপিতে ব্যবহৃত অলিভ অয়েলের পরিমাণ অর্ধেক করে দিতে পারেন।
-পুদিনাপাতার কুচি
-সামান্য রসুনগুঁড়া
-স্বাদমতো লবণ ও গোলমরিচের গুঁড়া

প্রস্তুত প্রণালি
প্রথমে শসাগুলো ভালো করে ধুয়ে পাতলা স্লাইস বা কিউব করে কেটে নিন। শসাগুলো আগেই লবণে ভিজিয়ে বাড়তি পানি ঝরিয়ে চিপে নিতে পারেন। একটি পাত্রে পানি ঝরানো ঘন টক দইয়ের সঙ্গে সামান্য অলিভ অয়েল, রসুনগুঁড়া, স্বাদমতো লবণ ও গোলমরিচের গুঁড়া দিয়ে খুব ভালো করে ফেটিয়ে একটি ক্রিমি ড্রেসিং তৈরি করুন। এবার এই দইয়ের মিশ্রণে কেটে রাখা শসা, তাজা পুদিনাপাতাকুচি দিয়ে আলতো করে মিশিয়ে নিন। পরিবেশনের আগে ওপরে সামান্য অলিভ অয়েল ও পুদিনাপাতা দিয়ে সাজিয়ে ঠান্ডা ঠান্ডা উপভোগ করুন।
সংরক্ষণের নিয়ম
এই সালাদ আপনি ফ্রিজে এয়ারটাইট পাত্রে সর্বোচ্চ দুদিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে পারবেন। তবে সময় যত যাবে, শসা থেকে পানি ছাড়ার কারণে সালাদটি কিছুটা পাতলা বা তরল হয়ে যেতে পারে। তাই তাজা তাজা বানিয়ে খাওয়াই সবচেয়ে উত্তম। একটি নিখুঁত ক্রিমি সালাদ তৈরির জন্য ফুল-ফ্যাট, পানি ঝরানো টক দই ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো।
কেন খাবেন

পেট ভারী বা অতিরিক্ত পূর্ণ লাগার অস্বস্তি ছাড়াই আপনি এটি পেট পুরে খেতে পারবেন। টক দই ব্যবহারের কারণে এটি প্রচুর প্রোবায়োটিকস (ভালো ব্যাকটেরিয়া) সমৃদ্ধ, যা গরমের দিনে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ও হজমপ্রক্রিয়া ভালো রাখে। যাঁরা কম কার্বোহাইড্রেটের ডায়েট বা ‘কিপ্টো ডায়েট’ অনুসরণ করছেন, তাঁদের জন্য এটি আদর্শ প্রোটিনসমৃদ্ধ সাইড ডিশ, যা যেকোনো মাংসের পদের সঙ্গে দারুণ মানিয়ে যায়।
সালাদ পানসে না হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ টিপস
শসায় প্রায় ৯৬ শতাংশ পানি থাকে। যখনই শসায় লবণ দেওয়া হয়, তখন তা থেকে পানি বের হতে শুরু করে। সালাদকে অতিরিক্ত পানি-পানি বা পানসে হওয়া থেকে বাঁচাতে দুটি পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন।
প্রথম পদ্ধতি: শসা কাটার পর তাতে লবণ মাখিয়ে কিছুক্ষণ একটি ছাঁকনিতে রেখে দিন, যাতে বাড়তি পানি ঝরে যায়। এরপর দইয়ের ড্রেসিংয়ে মেশানোর আগে শসাগুলো হাত দিয়ে হালকা চিপে নিন।
দ্বিতীয় পদ্ধতি: শসায় আগে থেকে লবণ না মেখে, ঠিক পরিবেশন করার আগমুহূর্তে সালাদটি সিজনিং বা লবণ-মসলা দিয়ে মেখে নিন। তবে এই পদ্ধতিতে সালাদটি মাখার পর দীর্ঘক্ষণ সংরক্ষণ করা যাবে না।
মনে রাখবেন, ভিনেগার বা টকজাতীয় উপাদানও শসাকে নরম করে ফেলে, তবে লবণের মতো অতটা পানি বের করে না।



